২০৩০ বিশ্বকাপও খেলতে পারেন রোনালদো, বিশ্বাস পর্তুগাল কোচের
যখন ২০৩০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে, তখন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বয়স হবে ৪৫ বছর। সাধারণভাবে ভাবলে, সেই বয়সে একজন ফুটবলারের বিশ্বকাপে খেলা প্রায় অকল্পনীয়। কিন্তু পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ মনে করেন, রোনালদোর ক্ষেত্রে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।
স্পেনের একটি রেডিও অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে মার্তিনেজ দৃঢ় কণ্ঠেই জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপে রোনালদোকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, 'কেউ যেন এটা নিয়ে সন্দেহ না করে। সে সেই অধিকার অর্জন করেছে।'
২০০৩ সালের আগস্টে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পর্তুগালের হয়ে অভিষেক হয়েছিল রোনালদোর। এরপর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় মুখ হয়ে আছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডও তার দখলে।
এখন পর্যন্ত পর্তুগালের জার্সিতে ২২৬টি ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জোয়াও মুতিনিয়োর চেয়ে ৮০টি বেশি। গোল করেছেন ১৪৩টি, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাউলেতার চেয়ে ৯৬টি বেশি।
রোনালদোর নেতৃত্বেই ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল পর্তুগাল। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপে দলকে চতুর্থ স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ১৯৬৬ সালের তৃতীয় স্থানের পর সেটিই বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেরা সাফল্য।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েন রোনালদো। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে রোনালদো এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির একসঙ্গে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার নজির গড়তে যাচ্ছেন।
মার্তিনেজ মনে করেন, রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা তার মানসিকতার। তিনি বলেন, 'আমি এমন অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করেছি, যারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ব্যালন ডি’অর জয়ের পরের দিনই ক্ষুধা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু রোনালদোর মধ্যে আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন মানসিকতার একটি উদাহরণ দেখি।'
পর্তুগাল কোচ আরও বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সেই লক্ষ্যই তাকে এত দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। অবশ্যই জেনেটিক বিষয় আছে, তার কঠোর পরিশ্রম আছে। নিজের শরীরের উন্নতির জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সে সবই ব্যবহার করে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় তার মানসিকতা।'
২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে পর্তুগাল, স্পেন ও মরক্কো। আর সেই আসরে রোনালদোকে দেখা যাবে কি না, তা এখনই বলা কঠিন। তবে তার বর্তমান ফিটনেস, পেশাদারিত্ব এবং খেলার প্রতি অদম্য ক্ষুধা দেখে অন্তত পর্তুগাল কোচের বিশ্বাস, রোনালদোকে নিয়ে অসম্ভব শব্দটি ব্যবহার করার সময় এখনও আসেনি।
এর আগে অবশ্য পর্তুগালের মনোযোগ থাকবে ২০২৬ বিশ্বকাপে। ‘কে’ গ্রুপে থাকা দলটি ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে।