ফিফার নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বকাপ শুরুর ম্যাচগুলো মিস করবেন প্রেস্তিয়ান্নি

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বড় ধাক্কা খেলেন আর্জেন্টিনার তরুণ ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার দেওয়া শাস্তিকে বিশ্বব্যাপী বহাল রেখেছে ফিফা। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে সুযোগ পেলে শুরুর কয়েকটি ম্যাচে মাঠে নামা হবে না তার।

ঘটনার সূত্রপাত চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে। ম্যাচ চলাকালে মুখ ঢেকে কিছু মন্তব্য করেন তিনি, যা ভিনিসিয়ুসের পক্ষ থেকে বর্ণবাদী অপমান হিসেবে অভিযোগ করা হয়। যদিও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও উয়েফা বিষয়টিকে বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচনা করে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়।

পরবর্তীতে উয়েফার আবেদনের প্রেক্ষিতে ফিফা তাদের শৃঙ্খলা বিধির ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বজুড়ে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে শাস্তিটি শুধু ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নয়, সব ধরনের অফিসিয়াল ম্যাচেই প্রযোজ্য হবে।

ছয় ম্যাচের এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তিনটি ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে, আর বাকি তিনটি দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ফিফার এই সিদ্ধান্তের ফলে অবশিষ্ট ম্যাচগুলোর শাস্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বহাল থাকবে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণে।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি যদি তাকে দলে ডাকেন, তবুও টুর্নামেন্টের শুরুর ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না প্রেস্তিয়ান্নি। এতে তার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরুই হতে পারে বড় অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে।

এদিকে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন চেষ্টা করেছিল প্রেস্তিয়ান্নির শাস্তি প্রীতি ম্যাচে ভোগানোর সুযোগ তৈরি করতে, কিন্তু যেহেতু সেগুলো অফিসিয়াল ম্যাচ নয়, তাই সেই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে এখন আইনি লড়াইয়ের পথেই হাঁটছেন প্রেস্তিয়ান্নি। প্রয়োজনে কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্টেও যাওয়ার কথা ভাবছেন, যাতে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।

অন্যদিকে প্রেস্টিয়ান্নি নিজের অবস্থানে অনড়। তার দাবি, 'কোনো বর্ণবাদী বা বৈষম্যমূলক আচরণ করিনি, প্রমাণ ছাড়াই আমাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।' তবে ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর এখন তার ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চয়তায় ঢেকে গেছে।