দুবাই থেকে

মাটিতে পা রাখা বাংলাদেশের সামনে ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’

একুশ তাপাদার
একুশ তাপাদার

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ওভারের রোমাঞ্চে জেতার পর বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের শরীরী ভাষা দেখালো নির্লিপ্ত। যেন তেমন কিছুই হয়নি এমন একটা ভঙ্গি প্রকাশ পাচ্ছিলো। সেই দৃশ্য মনে করিয়ে দিতে বললেন, 'আমি যতটা সম্ভব নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি। আমরা এখানে শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি ম্যাচ জিততে আসিনি; আমরা এখানে টুর্নামেন্ট জিততে এসেছি।'

সুপার ফোরে উঠাই বাংলাদেশের স্বপ্নের সীমানা নয়, টুর্নামেন্ট খেলতে আসার আগে বারবার শিরোপা জেতার কথাই বলছিলেন তারা। সিমন্স মনে করিয়ে দিলেন, কেবল গালভরা কথা নয়। বাড়তি উচ্ছ্বাসে না ভেসে আসল লক্ষ্য পূরণে সত্যি সত্যি মরিয়া তারা।

টুর্নামেন্ট জিততে হলে প্রথমে পা রাখতে হবে ফাইনালে। সেই ফাইনাল এখনো যথেষ্ট সীমার মধ্যেই আছে। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে পর পর দুদিন দুই ম্যাচ, যার অন্তত একটা জিতলেও খুলে যাবে ২৮ সেপ্টেম্বরের ম্যাচের দুয়ার। যতক্ষণ পর্যন্ত আসরে টিকে আছেন, টিকে আছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা। কাজটা পুরোপুরি করতে পারলেই তবে অনুভূতিকে মেলে ধরবেন বাংলাদেশের কোচ, 'যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাচ্ছি না বা টুর্নামেন্ট জিতছি না, ততক্ষণ আমি আমার আবেগ প্রকাশ করতে পারব না। তবে ড্রেসিংরুমে সবাইকে বাস্তবতায় রাখাই আমার দায়িত্ব।'

ফাইনালের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রথম বাধার নাম ভারত। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে শক্তিশালী দল তারাই, এই কথায় দ্বিমত নেই প্রায় কারো। তবে শক্তিশালী মানেই অজেয় এমনটা আবার মানেন না সিমন্স। ক্যারিবিয়ান সাবেক এই ক্রিকেটারের দৃঢ় উচ্চারণ, 'প্রতিটি দল ভারতের বিপক্ষে জেতার সামর্থ্য রাখে। খেলা সেদিনই খেলা হয়। এটা ভারতের আগের সাফল্য নিয়ে নয়। এটা বুধবার কী হবে তা নিয়ে। সেই তিন-ঘণ্টা-আধেকের সময়কালে কী ঘটে সেটাই আসল। আমরা যতটা ভালো খেলতে পারি তা খেলব এবং ভারতের অস্ত্রাগারে ভুল ধরানোর চেষ্টা করব। এভাবেই আমরা ম্যাচ জিততে পারি।'

 ভারতকে হারিয়ে দেওয়ার বিশ্বাস জড়ো করেছেন তারা। সবাই মিলে বসে বের করেছেন কোন পথে এগুলে তৈরি হতে পারে সুযোগ। প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চটা নিংড়ে দিলে অসম্ভবও ভীষণ সম্ভব হয়ে উঠবে। সোমবার দুবাইর আইসিসি একাডেমি মাঠে বাংলাদেশ দল সামনের দুই হাই ভোল্টেজ ম্যাচ সামনে রেখেই অনুশীলন সেরেছে। দল ফাইনালে না উঠলে এটা হবে এশিয়া কাপে নিজেদের শেষ অনুশীলন সেশন। আর ফাইনালে উঠলে আরেকবার আইসিসি একাডেমি মাঠে হাজির হবেন লিটনরা। তিন ঘণ্টার সেশন শুরু হয় ওয়ার্মআপের সব ফ্যান গেমে। যেটা দেখলে মনে হবে বাংলাদেশের চেয়ে সুখী পরিবার এই আসরে আর নেই। স্কিল অনুশীলন শুরু হতে দেখা গেল বড় বড় ছক্কার মহড়া। এক মাঠ থেকে বল ছুটে যাচ্ছিল পাশের আরেক মাঠে। গণমাধ্যম কর্মীরা ফুটেজ নেওয়ার ফাঁকে আতঙ্কিত থাকছেন কখন না আবার বল এসে পড়ে। বল কুড়াতে ব্যস্ত সাপোর্ট স্টাফদের অবস্থা দেখে বাংলাদেশ দলের প্রধান চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ চৌধুরীকেও বল কুড়িয়ে আনার কাজে লাগে পড়তে হলো। ম্যাচেও এমন মহড়ার প্রভাব থাকলে হাসি চওড়া হতে পারে টাইগারদের। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচণ্ড তাপ থেকে বাঁচতে ভারত ম্যাচের আগের দিন পুরোপুরি বিশ্রামে পার করেছেন ক্রিকেটাররা। অধিনায়ক লিটনের অবশ্য এমনিতেও বিশ্রামে থাকতে হতো। নেটে ব্যাট করার সময় পিঠের বা দিকে টান পড়ে তার, অস্বস্তি অনুভব করে মাঠেই শুয়ে থাকেন খানিকক্ষণ। আর অনুশীলন করেননি তিনি।

জানা গেছে, তার এই টান গুরুতর কিছু নয়, দরকার পর্যাপ্ত বিশ্রাম। এবার এশিয়া কাপে 'উইনিং কম্বিনেশন' শব্দটাকে ঝেড়ে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ, কন্ডিশন ও ম্যাচ-আপ হিসেব করে একাদশে আনা হচ্ছে বদল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ জেতায় দারুণ বল করা রিশাদ হোসেনকে লঙ্কানদের বিপক্ষে রাখা হয়নি। আবার শরিফুল ইসলামকে একাদশে খেলানো হয় প্রতিপক্ষে বাঁহাতি ব্যাটারদের বাঁহাতি পেস দুর্বলতার বিচারে। ভারতের বিপক্ষে যে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের একাদশ খেলছে তা অনেকটা স্পষ্ট। সিমন্সের কথাতে মিলল তেমন আভাস, 'আমরা এমন একাদশ গঠনের দিকে তাকিয়ে আছি যেটিকে আমরা মনে করি সামনের ম্যাচের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হতে পারে। দলের ভারসাম্যটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।'

 লঙ্কানদের বিপক্ষে ছন্দহীন শরিফুল বসিয়ে তানজিম হাসান সাকিবকে একাদশে ফেরানো হতে পারে। ফিরতে পারেন রিশাদ হোসেনও। রিশাদকে খেলালে শেখ মেহেদী বা নাসুম আহমেদের একজনকে বসতে হবে। চোটজনিত কারণ না থাকলে ব্যাটিং লাইনআপে বদল আসবে না।