ডোপিং নিষেধাজ্ঞা: কাঠামোগত দুর্বলতা কি তবে প্রকাশ্য?

আনিসুর রহমান
আনিসুর রহমান

সাউথ এশিয়ান গেমসে দু’বার স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়ার ডোপ টেস্টে নিষিদ্ধ ওষুধের উপস্থিতি মিলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া—সব ধরনের প্রতিযোগিতায় দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি।

গত ১৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলে আসছেন ২৮ বছর বয়সী এই অ্যাথলেট। এর আগে অসংখ্যবার ডোপ টেস্ট দিয়েও কোনো ঝামেলায় পড়েননি। ফলে এবারের নিষেধাজ্ঞা নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—এটি কি স্রেফ অসাবধানতা, নাকি ডোপিং নিয়ম সম্পর্কে অজ্ঞতা?

যেভাবে এলো নিষেধাজ্ঞা

সাউথ এশিয়ান আঞ্চলিক ডোপ-বিরোধী সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্ব ডোপ-বিরোধী সংস্থা (ওয়াদা) বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ) বিষয়টি জানায়। গত বৃহস্পতিবার বিওএ আনুষ্ঠানিকভাবে মাবিয়াকে নিষিদ্ধ করার চিঠি দেয়। নমুনা সংগ্রহের তারিখ অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ধরা হয়েছে।

নভেম্বরে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিওএ ২৬ জন অ্যাথলেটের নমুনা নিয়েছিল। সেখানেই মাবিয়ার নমুনায় ‘ফুরোসেমাইড’ ও ‘ক্যানরেনোন’ নামের নিষিদ্ধ উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

ভুলটি কোথায় ছিল?

মাবিয়ার দাবি, হাঁটুর ইনজুরির কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি কিছু ওষুধ খাচ্ছিলেন, যার মধ্যে যে নিষিদ্ধ উপাদান আছে তা তিনি জানতেন না। তবে বিওএ-র ডোপ-বিরোধী কমিটির সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো ওষুধ খাওয়ার আগেই কমিটির মাধ্যমে ওয়াদার অনুমতি নিতে হয়, যা মাবিয়া করেননি।

মাবিয়া বলেন, ‘নমুনা দেওয়ার সময় আমি সাত-আট মাস ধরে হাঁটুর চিকিৎসা নিচ্ছিলাম। আমি আমার প্রেসক্রিপশন জমা দিলেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। ১৫ জানুয়ারি বিওএ-র কাছ থেকে প্রথম জানতে পারি যে ফুরোসেমাইড একটি নিষিদ্ধ ওষুধ।’

অন্যদিকে ডা. শফিকুলের মতে, ‘খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব সবার আগে, তবে ওষুধের ক্ষেত্রে নিয়ম মানতে হবে। কয়েক বছর আগে শুটার আরমিন আশা যেভাবে অনুমতি নিয়েছিলেন, মাবিয়া তেমন কোনো অনুমতি নেননি।’

সচেতনতার অভাব

এই ঘটনা আমাদের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মাবিয়ার অভিযোগ, ‘সেমিনারে আমাদের শুধু প্রেসক্রিপশন রাখার কথা বলা হয়েছিল। ওষুধ খাওয়ার আগে কমিটির অনুমতি নিতে হবে—এমনটা আগে কখনো জানানো হয়নি। এমনকি প্যারাসিটামলও নিরাপদ বলা হয়েছিল। ১৫ বছরের ক্যারিয়ার কেন আমি জেনেশুনে ধ্বংস করব?’

মাবিয়া এরই মধ্যে চার মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেলেছেন। তবে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি ফেডারেশন ও বিওএ-র সহযোগিতা চেয়েছেন।