১৬ বছরেই দুর্দান্ত গোলে সুলিভানের রেকর্ড

স্পোর্টস ডেস্ক

রোববার ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের জয়ের দিনে মাঠ মাতালেন কাভান সুলিভান। তার এক অসাধারণ দর্শনীয় গোলে রেড বুল নিউ ইয়র্ককে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ফিলাডেলফিয়া। আর এই রূপকথার পারফরম্যান্সের পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে তাকে ডেকে নেওয়ার দাবি এখন আরও জোরালো হচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এই খবরটি বাড়তি রোমাঞ্চের। ১৬ বছর বয়সী এই আমেরিকান বিস্ময় বালকের পারিবারিক সূত্রে বাংলাদেশের সঙ্গেও রয়েছে সংযোগ; তার মাতামহ একজন বাংলাদেশি।

স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড স্টেডিয়ামে রোববার রাতে একা হাতেই ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে টেনে নেন সুলিভান। প্রতিপক্ষের রক্ষণ চিরে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে ফিলাডেলফিয়ার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই উইঙ্গার।

টানা দুই ম্যাচে এটি সুলিভানের দ্বিতীয় গোল। আমেরিকার ফুটবলের উঠতি এই তারকার জন্য চলতি মৌসুমটি যে স্বপ্নের মতো কাটছে, রোববারের পারফরম্যান্স তারই আরেকটি উজ্জ্বল প্রমাণ।

ফিলাডেলফিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ রায়ান রিখটার ম্যাচের পর সুলিভানের প্রশংসা করে বলেন, ‘যে ধরনের গোল ও করেছে, সেটা ওর স্বাভাবিক সক্ষমতারই অংশ। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে ও অন্যদের চেয়ে আলাদা। আমরা চাই মাঠে ও নিজের মতো খেলে স্বাধীনতা উপভোগ করুক।’

এই গোলটির একটি বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে। চলতি এমএলএস মৌসুমে সুলিভানের গোল অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) এখন ১০টি (৩টি গোল ও ৭টি অ্যাসিস্ট)। এমএলএসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ বা তার কম বয়সে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোলের অবদানের তালিকায় সুলিভান এখন ফ্রেডি আদুর ঐতিহাসিক রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন।

এমএলএস কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, সুলিভান এখন টানা চার ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করার কীর্তি গড়েছেন। অনূর্ধ্ব-১৮ খেলোয়াড়দের মধ্যে এটি যৌথভাবে সবচেয়ে দীর্ঘ স্ট্রাইকের রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে রিকার্ডো পেপি এবং ২০১৩ সালে দিয়েগো ফাগুন্দেজ এই রেকর্ড গড়েছিলেন।

এই জয়ে এমএলএসে ফিলাডেলফিয়ার টানা সাত ম্যাচ অপরাজিত থাকার ধারা বজায় রইল। তবে ম্যাচ শেষের সব আলোচনা যেন আটকে ছিল সুলিভানকে নিয়েই—এমন চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের পর সিনিয়র জাতীয় দলে (ইউএসএমএনটি) তার অভিষেক হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার কি না, তা নিয়েই চলছিল গুঞ্জন।

আগামী মাসের ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে পেরু, চিলি, মেক্সিকো ও কানাডার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সুলিভানের এমন ফর্ম দেখার পর কোচ মরিসিও পচেটিনো এই তরুণকে দলে সুযোগ দিতে বাধ্য হবেন বলেই ধারণ করা হচ্ছে।

তবে নিজের এই উড়ন্ত ফর্ম আর জাতীয় দলের আলোচনা নিয়ে বেশি ভাবছেন না সুলিভান।

সংবাদ সম্মেলনে সুলিভান বলেন, ‘জাতীয় দলে ডাক পাওয়া নিয়ে আমি এখনই ভাবছি না। সবচেয়ে বড় কথা দল জিতছে এবং আমি জয়ে ভূমিকা রাখতে পারছি। গোল আর অ্যাসিস্ট নিয়মিত আসছে, আমার লক্ষ্য শুধু এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।’