পারেদেস-মলিনার শাস্তি নিয়ে আর্জেন্টিনার কৌশলী জয়
বিশ্বকাপ ফাইনালের পরের সেই উত্তপ্ত সংঘর্ষের মাশুল গুনতে হচ্ছে আর্জেন্টিনার দুই তারকা লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মলিনাকে। তবে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞায় বড় ম্যাচগুলোতে তাদের হারানোর শঙ্কা কিছুটা হলেও কমেছে। ফিফার কাছে কৌশলী আবেদনে সাড়া মিলেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের। বন্ধুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচেই নিষেধাজ্ঞার বড় একটি অংশ কাটিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন দুই খেলোয়াড়।
ফলে বড় কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে দীর্ঘ সময়ের জন্য হারানোর শঙ্কা আপাতত কিছুটা কমেছে। তবে শাস্তি বাতিল হয়নি; বরং কী ধরনের ম্যাচে তা কার্যকর হবে, সেই নিয়মেই এসেছে পরিবর্তন।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয় ফিফা।
সবচেয়ে বড় শাস্তি পেয়েছেন পারেদেস। স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে গলা চেপে ধরা, গাভিকে মুখে আঘাত করা এবং পরে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে জরিমানাও করা হয় প্রায় ৬৫ হাজার পাউন্ড।
মলিনার শাস্তিও কম নয়। স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিকে শরীরে আঘাত করার ঘটনায় আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডারকে দেওয়া হয় ৭ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।
এ ছাড়া সংঘর্ষে নিজেদের ভূমিকার জন্য থিয়াগো আলমাদা ও স্পেনের গাভিকে এক ম্যাচ করে নিষিদ্ধ করা হয়। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় ফিফা।
এ অবস্থায় পারেদেস ও মলিনার নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমাতে ফিফার কাছে আবেদন করে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তাদের অনুরোধ ছিল, বিশ্বকাপের ঘটনায় দেওয়া শাস্তিগুলো যেন ‘এ’ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ এবং আনুষ্ঠানিক ম্যাচ যেটি আগে আসে, সেখানে কার্যকর করা যায়।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের আবেদনের পর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সেই অনুরোধ অনুমোদন করেছে।
এর অর্থ, সামনে আর্জেন্টিনার যেসব আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ রয়েছে, সেসব ম্যাচেও পারেদেস ও মলিনা তাদের নিষেধাজ্ঞার ম্যাচগুলো কাটাতে পারবেন। এতে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তাদের অনুপস্থিতির প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।
তবে এখানেই বিষয়টির শেষ নয়। নিজেদের অধিকার এবং খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষায় ফিফার সিদ্ধান্তের লিখিত ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেই ব্যাখ্যা পাওয়ার পর ফিফার আপিল কমিটিতে আবেদন করার পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি ক্রীড়া সালিশি আদালত পর্যন্ত নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে তারা।
বিশ্বকাপের ফাইনালের সংঘর্ষই অবশ্য আর্জেন্টিনার একমাত্র বিতর্কিত ঘটনা ছিল না। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে হারানোর পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিতর্কিত একটি ব্যানারসহ উদযাপন করতে দেখা যায়। লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, জিওভানি লো সেলসো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসদের নিয়েও তখন শাস্তির দাবি উঠেছিল।
তবে ওই ঘটনায় খেলোয়াড়দের সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি ফিফা। বরং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৭৩ হাজার পাউন্ডের শাস্তি স্থগিত রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুটি ম্যাচে দর্শক ধারণক্ষমতার ওপরও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। ম্যাচগুলো ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে আয়োজন করতে হবে, যদিও এর মধ্যে একটি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রয়েছে।