ভারত ও চীনে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ভারত ও চীনে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী মাসেই পর্দা উঠতে যাওয়া এই আসরটি দেশ দুটির কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। ভারতে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে সৃষ্টি হওয়া অচলাবস্থা এবং চীনে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার রয়টার্সকে দুটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতে রিলায়েন্স-ডিজনি যৌথ উদ্যোগ ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের জন্য ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার প্রস্তাব করেছে, যা ফিফার চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ফুটবলের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সনি আলোচনা চালালেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চীনের ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তির ঘোষণা আসেনি। অথচ ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ বিশ্বকাপের সময় বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল ও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মোট দেখার সময়ের প্রায় অর্ধেকই (৪৯.৮ শতাংশ) ছিল চীনের অবদান। ফিফা কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষই এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

টুর্নামেন্ট শুরুর এই পর্যায়ে এসে ভারত বা চীনের সঙ্গে নিশ্চিত কোনো সম্প্রচার চুক্তি না থাকাটা বেশ অস্বাভাবিক। অতীতের বিশ্বকাপগুলোতে দেখা গেছে, টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগেই সম্প্রচার মাধ্যমগুলো প্রচারণামূলক কন্টেন্ট ও বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করে দিত।

২০২২ সালের টুর্নামেন্টে বিশ্বব্যাপী টিভির দর্শকের ১৭.৭ শতাংশ ছিল চীনের এবং ২.৯ শতাংশ ছিল ভারতের। ২০২৬ সালের টুর্নামেন্ট শুরু হতে যাচ্ছে ১১ জুন। হাতে সময় আছে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ। এর মধ্যেই চুক্তি চূড়ান্ত করা, সম্প্রচার অবকাঠামো প্রস্তুত করা এবং বিজ্ঞাপনের স্লট বিক্রির মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ বাকি।

ভারত ও চীনে ফুটবলের বিশাল দর্শক ও বিপণন বাস্তবতা

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত থেকে ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের জন্য ফিফা শুরুতে ১০ কোটি ডলার চেয়েছিল। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের স্বত্ব রিলায়েন্সের তৎকালীন মিডিয়া শাখা প্রায় ৬ কোটি ডলারে কিনেছিল, যা টুর্নামেন্ট শুরুর ১৪ মাস আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। ওই আসরটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ১১ কোটিরও বেশি দর্শক টেনেছিল।

রিলায়েন্স এবং ডিজনি বর্তমানে একীভূত হয়ে ভারতের মিডিয়া জগতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। ফিফাকে দেওয়া ২ কোটি ডলারের প্রস্তাবটি মূলত এই ভারতীয় গোষ্ঠীর দর কষাকষির ক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। ফিফা তাদের দাবি থেকে অনেকটা সরে আসলেও রিলায়েন্সের এই প্রস্তাবে তারা এখনো রাজি হয়নি।

রিলায়েন্স-ডিজনি ক্রিকেটের পেছনে কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ করলেও ফুটবলের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক। তাদের ধারণা, এবারের বিশ্বকাপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ম্যাচগুলো ভারতের সময় অনুযায়ী গভীর রাতে বা ভোরে শুরু হবে, যা দর্শক সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে ক্রিকেটের মতো ফুটবলের বাণিজ্যিক গুরুত্ব এখনো ততটা শক্তিশালী নয়। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও বিজ্ঞাপনের বাজারের মন্দা রাজস্বের প্রত্যাশাকে আরও কমিয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপনী সংস্থা ডেন্টসু ইন্ডিয়ার স্পোর্টস ম্যানেজিং পার্টনার রোহিত পটফোড়ে এই পরিস্থিতিকে তুলনা করেছেন দাবার চালের সঙ্গে। তাঁর মতে, 'সময় খুব বেশি বাকি নেই, তবে এটি একেবারে শেষ হয়ে গেছে বলা যাবে না। আমরা এখন দাবা খেলার শেষ পর্যায়ে আছি, যেখানে মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি চাল বাকি আছে।'