ইসরায়েলকে জরিমানা ফিফার
বিশ্ব ফুটবলে বৈষম্যবিরোধী নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে এবার শাস্তির মুখে পড়েছে ইসরায়েল ফুটবল সংস্থা। একাধিক গুরুতর ব্যর্থতার দায়ে সংস্থাটিকে জরিমানা করেছে ফিফা, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
ফিফা বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শৃঙ্খলা কমিটির তদন্তে উঠে এসেছে, বর্ণবাদবিরোধী দায়িত্ব পালনে 'একাধিক ব্যর্থতা' ছিল তাদের।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি ক্লাব বেইতার জেরুজালেমের সমর্থকদের ধারাবাহিক ও সুপ্রমাণিত বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ করে 'ফরএভার পিওর' স্লোগান ব্যবহার এবং আরব খেলোয়াড়দের উদ্দেশে 'সন্ত্রাসী' বলে কটূক্তি করা, এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফিফা।
এই তদন্তের সূচনা হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে, যখন প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বৈষম্যের অভিযোগ তোলে। যদিও তারা ইসরায়েল ফুটবল সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়েছিল, ফিফা সে পথে না গিয়ে জরিমানা ও সতর্কবার্তার সিদ্ধান্ত নেয়।
শাস্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল ফুটবল সংস্থাকে আগামী তিনটি ফিফা প্রতিযোগিতার হোম ম্যাচে 'ফুটবল বিশ্বকে এক করে – বৈষম্য নয়' বার্তাসংবলিত বড় ও দৃশ্যমান ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ অর্থ ব্যয় করতে হবে বৈষম্য রোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংস্থাটি কখনো প্রকাশ্যে বর্ণবাদকে নিন্দা করেনি, কোনো বৈষম্যবিরোধী প্রচার চালায়নি, এমনকি আরব বা ফিলিস্তিনি খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেয়নি। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এদিকে পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে আলাদা তদন্তে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এই অঞ্চলের চূড়ান্ত অবস্থান এখনো জটিল ও অনির্ধারিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। তবে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, খেলাধুলার স্বায়ত্তশাসন যেন মৌলিক মানবাধিকারের ক্ষতি না করে।