ট্রান্সফার বিতর্কে রোনালদোকে সতর্ক করলো সৌদি প্রো লিগ
সৌদি ফুটবলের ট্রান্সফার বাজার ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কেন্দ্রে এখন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। আল-নাসরের জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষ সরাসরি অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে, “কোনো ব্যক্তি, তিনি যত বড় তারকাই হোন না কেন, নিজের ক্লাবের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করতে পারেন না।” ট্রান্সফার ব্যয়, বিনিয়োগ কাঠামো ও ক্লাবগুলোর আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে এই বার্তা কার্যত রোনালদোকে লক্ষ্য করেই দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
৪১ বছরে পা রাখা পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদো আল-নাসরের জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে কার্যত কোনো বড় নাম না আসায় ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে। এই বিরোধের জেরেই তিনি সোমবার আল-রিয়াদের বিপক্ষে সৌদি প্রো লিগ ম্যাচে খেলেননি এবং শুক্রবার আল-ইত্তিহাদের বিপক্ষেও মাঠে না নামতে পারেন, এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শীতকালীন উইন্ডোতে সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) আল-নাসরে বিনিয়োগ না করায় রোনালদো অসন্তুষ্ট। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী আল-হিলাল যেটিও ৭৫ শতাংশ মালিকানায় পিআইএফের অধীনে, আল-ইত্তিহাদ থেকে তার সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ করিম বেনজেমাকে দলে ভেড়ায়। এই বৈপরীত্যই মূলত অসন্তোষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সৌদি প্রো লিগ ক্লাবগুলোর আর্থিক ও কৌশলগত স্বাধীনতার বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরে। লিগের এক মুখপাত্র বলেন, “সৌদি প্রো লিগ একটি সহজ নীতির ওপর গড়ে উঠেছে, প্রতিটি ক্লাব একই নিয়মের অধীনে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। প্রত্যেক ক্লাবের নিজস্ব বোর্ড, নিজস্ব নির্বাহী এবং নিজস্ব ফুটবল নেতৃত্ব রয়েছে। দল গঠন, ব্যয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত সেই ক্লাবগুলোরই বিষয়, একটি আর্থিক কাঠামোর ভেতরে থেকে, যা টেকসই উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নিশ্চিত করে। এই কাঠামো পুরো লিগজুড়ে সমানভাবে প্রযোজ্য।”
তিনি আরও বলেন, “রোনালদো আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্লাবের সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত এবং ক্লাবের উন্নয়ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগীর মতো তিনিও জিততে চান। কিন্তু কোনো ব্যক্তি, তিনি যত বড় তারকাই হোন না কেন, নিজের ক্লাবের বাইরে সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করতে পারেন না।”
লিগ কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক ট্রান্সফার কার্যক্রমের দৃষ্টান্ত টেনে জানায়, “একটি ক্লাব একভাবে শক্তিশালী হয়েছে, অন্যটি ভিন্ন কৌশল বেছে নিয়েছে, এসবই ক্লাবভিত্তিক সিদ্ধান্ত, অনুমোদিত আর্থিক সীমার মধ্যেই নেওয়া। লিগের প্রতিযোগিতামূলক চিত্রই তার প্রমাণ। শীর্ষ চার দলের মধ্যে মাত্র কয়েক পয়েন্টের ব্যবধান, শিরোপার লড়াই পুরোপুরি খোলা। এই ভারসাম্যই দেখায় যে ব্যবস্থাটি ঠিকভাবেই কাজ করছে। ফোকাস থাকবে ফুটবলে, মাঠের ভেতরে, যেখানে ফুটবলের আসল জায়গা।”
ট্রান্সফার অর্থায়ন কাঠামো নিয়েও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ট্রান্সফার ফান্ড সরাসরি পিআইএফ থেকে আসে না; বরং একটি কেন্দ্রীয় ‘প্লেয়ার অ্যাকুইজিশন ফান্ড’ থেকে অর্থ বরাদ্দ হয়, যা সৌদি প্রো লিগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। ক্লাবের আকার অনুযায়ী প্রতিবছর এই তহবিল দেওয়া হয়। দেশের বড় চার ক্লাব আল-নাসর, আল-হিলাল, আল-ইত্তিহাদ ও আল-আহলি গত গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোর আগে প্রায় সমান অঙ্কের অর্থ পেয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
আল-নাসর সেই গ্রীষ্মকালীন উইন্ডোতেই বড় অঙ্কের খরচ করে জোয়াও ফেলিক্স ও কিংসলে কোমানকে দলে নেয়, পাশাপাশি রোনালদোর চুক্তি নবায়ন করে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ায়। এসব সাইনিংয়ের মাধ্যমে তাদের ‘প্লেয়ার অ্যাকুইজিশন ফান্ড’-এর বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়। ফলে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন উইন্ডোর আগে নতুন কিস্তি না পাওয়া পর্যন্ত জানুয়ারিতে বড় বিনিয়োগের সুযোগ তাদের হাতে ছিল না বলেই জানা গেছে।
অন্যদিকে, আল-হিলালের করিম বেনজেমা সাইনিংটি হয়েছে একটি বেসরকারি বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে। বৃহস্পতিবার আল-ওখদুদের বিপক্ষে ৬–০ গোলের জয়ে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে দারুণ বার্তা দেন ফরাসি তারকা।
রোনালদোর শুক্রবারের ম্যাচ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, বৃহস্পতিবার আল-নাসর তাদের তারকা ফরোয়ার্ডকে ঘিরে উষ্ণ জন্মদিন বার্তা প্রকাশ করে। ক্লাবের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে লেখা হয়, “লেজেন্ড আরও বড় হয়। তোমার প্রতিশ্রুতি, মানসিকতা ও নেতৃত্ব আমাদের স্বপ্নকে এগিয়ে নেয়। শুভ জন্মদিন, ক্রিস্তিয়ানো!”