নাসুমের ঘূর্ণিতে বিধ্বস্ত নোয়াখালী
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যেন একাই নিজের হাতে তুলে নিলেন নাসুম আহমেদ। বাঁহাতি এই স্পিনারের বিধ্বংসী বোলিংয়ে তছনছ হয়ে গেল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। কোনোমতে পঞ্চাশ পার করে দলটি। আর সে লক্ষ্য ছাড়িয়ে যেতে তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি সিলেট টাইটানসকে।
সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ম্যাচে নোয়াখালীকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে সিলেট। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নাসুমের তোপে মাত্র ৬১ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। জবাবে ৮.৪ ওভারেই কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয় সিলেট।
ম্যাচের দিন বিপিএল টি–টোয়েন্টি ইতিহাস গড়েন নাসুম, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। চার ওভারে মাত্র সাত রান খরচায় পাঁচ উইকেট নেন নাসুম। এটি বিপিএল ইতিহাসে কোনো স্পিনারের সেরা বোলিং ফিগার, আর সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টের পঞ্চম সেরা বোলিং রেকর্ড। এর আগে বিপিএলে স্পিনারদের মধ্যে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি ছিল সাকিব আল হাসানের দখলে, ২০১৭ সালে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৩ উইকেট ১৭ রানে।
ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নোয়াখালী এক্সপ্রেস, কিন্তু শুরু থেকেই সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল, তা দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে যায়। সিলেটের বোলারদের চাপে পড়ে নোয়াখালী ২৮ রানেই হারায় তিন উইকেট। এরপর নাসুম আহমেদের আগমনে পুরো ইনিংসটাই ভেঙে পড়ে। এক পর্যায়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারানো নোয়াখালীকে নিজের শেষ ওভারে মাত্র এক রানের ব্যবধানে ৯ উইকেটে নামিয়ে আনেন নাসুম, ৫৫ থেকে ৫৬ রানেই পড়ে যায় তিন উইকেট।
শেষ পর্যন্ত নোয়াখালী এক্সপ্রেস মাত্র ৬১ রানে অলআউট হয়ে যায় ১৪.২ ওভারে। এটি বিপিএল ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ, সিলেট ভেন্যুতে সর্বনিম্ন এবং ২০১৯ সালে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ৬৩ রানে অলআউট হওয়ার পর বিপিএলের সবচেয়ে কম স্কোর।
নোয়াখালীর ইনিংসে সামান্য প্রতিরোধ গড়েন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, ৩২ বলে ২৫ রান করেন তিনি। ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান করেন ১৬ বলে ১৮ রান। তবে এই দুজন ছাড়া আর কেউই দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারেননি।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পাকিস্তানি পেসার বিলাল সামির বলে শুরুতেই ফিরে যান জাতীয় দলের ক্রিকেটার পারভেজ হোসেন ইমন। তবে জাকির হোসেনের সঙ্গে আরেক ওপেনার তৌফিক খানের ৫৩ রান্বের জুটিতে জয়ের সুবাদ পেতে থাকে দলটি।
তবে এরপর আফগানিস্তানের রিস্ট স্পিনার জহির খান বাকি কাজটা কঠিন করে দিয়েছিলেন সিলেটের জন্য। সাত রান তুলতে এ দুই সেট ব্যাটার সহ আফিফ হোসেনকে তুলে নেন তিনি। তবে লক্ষ্য ছোট হওয়ায় জয় নিশ্চিত হয়ে যায় দলটি। তৌফিক ৩২ ও জাকির ২৪ রান করেন। ১.৪ ওভার বল করে ৮ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন জহির।