ইংল্যান্ড সফরে চরম বিশৃঙ্খলা, খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে এবার তদন্তে পিসিবি

স্পোর্টস ডেস্ক

পরপর দুই টেস্টে গুঁড়িয়ে গিয়ে সিরিজ আগেই হাতছাড়া হয়েছে। যার জেরে স্কোয়াডে ও টিম ম্যানেজমেন্টে এসেছে বড়সড় বদল। তার ওপর এবার নতুন করে চেপে বসেছে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়। ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তান ক্রিকেট দল যখন একের পর এক হারে দিশেহারা, ঠিক তখনই খেলোয়াড়দের চালচলন ও আচরণ খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। 

মাঠের চরম ব্যর্থতার সঙ্গে মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা পিসিবিকে ঠেলে দিয়েছে এক নজিরবিহীন সংকটে।

পিসিবির মিডিয়া ডিরেক্টর আমির মীর সোমবার জানান, গণমাধ্যমে উঠে আসা বেশ কিছু অনিয়মের খবরের ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ। তবে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ বা কার কার নাম এতে জড়িয়ে আছে, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি তিনি।

এক বিবৃতিতে মীর বলেন, ‘পিসিবি নিয়ম মেনেই সব কাজ সম্পন্ন করে। এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া, যা বোর্ডের বিধিসংশ্লিষ্ট কাঠামোর মধ্য দিয়েই এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়েই পুরো বিষয়টি দেখা হবে।’

লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে ৩-০ ব্যবধানের সিরিজে ২-০-তে পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান। আর এই ম্যাচ শেষ হতেই তড়িঘড়ি করে সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠায় পিসিবি, যা দলের ভেতরের চরম বিশৃঙ্খলার খবরই বাইরে নিয়ে আসে।

এর আগে হেডিংলিতে প্রথম টেস্টেও এক ইনিংস ও ১০৩ রানের বড় ব্যবধানে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল সফরকারীরা। ফলে ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামে শেষ টেস্টে নামার আগে মাঠ ও মাঠের বাইরের এমন টালমাটাল অবস্থায় মারাত্মক চাপে রয়েছে পাকিস্তান।

দলকে কক্ষপথে ফেরাতে এরই মধ্যে কোচিং প্যানেলে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে বোর্ড। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় ম্যাচের মাথায় ছেঁটে ফেলা হয়েছে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে। শেষ টেস্টের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হোয়াইট বলের দুই কোচ মাইক হেসন ও অ্যাশলে নফকে। সিরিজের মাঝে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে সাতজনকে।

পিসিবি প্রধান মহসিন নকভিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংকটের পেছনে কেবল বাজে পারফরম্যান্সই একমাত্র কারণ নয়। ঘটনার পেছনের ঘটনা উদ্ঘাটনের আশ্বাস দিয়ে জিও নিউজকে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, তা নিয়ে কথা হয়েছে। এখানে পারফরম্যান্সের বাইরেও অন্যান্য অনেক হিসাব-নিকাশ জড়িয়ে আছে, আমরা একদম শেষ দেখে ছাড়ব।’

মূলত সফরকারী নির্বাচক কমিটির সঙ্গে—যেখানে সরফরাজ ও অধিনায়ক বাবর আজম ছিলেন—পিসিবির ডিরেক্টর অব হাই পারফরম্যান্স আকিব জাভেদের মারাত্মক দ্বিমত থেকেই এই গণ্ডগোলের সূত্রপাত।

দল নির্বাচন নিয়ে তো বটেই, ওপেনার ইমাম-উল-হকের চোটে পড়া নিয়েও প্রকাশ্যে তোপ দাগেন আকিব। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই পায়ে চোট পান ইমাম, যার পর তিনি আর ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। তবে আকিবের দাবি ছিল, চোট নিয়েও দলের প্রয়োজনে ইমামের ক্রিজে নামা উচিত ছিল। দলের ভেতরের অনৈক্য নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, এসব রদবদল জরুরি ছিল, কারণ ‘দুনিয়ার মানুষ এখন আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করছে।’

তবে নতুন করে ঠিক কোন ঘটনার জের ধরে এই তদন্তের বাঁশি বাজল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছে পিসিবি।

যাদের দেশে পাঠানো হয়েছে তদন্ত কি কেবল সেই সাতজনের ওপরই সীমাবদ্ধ, নাকি বার্মিংহামে অবস্থানরত বর্তমান দলের বাকিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে—সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। এমনকি তদন্তের সময়সীমা কিংবা দায়ীদের কী শাস্তি হতে পারে, সে বিষয়েও মুখ খোলেনি বোর্ড।

সিরিজ হাতছাড়া তো হয়েছেই, এখন বার্মিংহামে ধবলধোলাই এড়ানোর লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজেদের সামাল দেওয়ার কঠিন পরীক্ষায় নামতে হচ্ছে পাকিস্তান দলকে।