জয়সওয়ালের সঙ্গে কি হয়েছিলো শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের?
আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যাচ্ছিলেন জশস্বী জয়সওয়াল। ঠিক তখনই শ্রীলঙ্কান শিবিরের কেউ একজন বিদায়বেলায় কিছু একটা বলে বসেন। ব্যাস, মুহূর্তেই মাথা গরম করে ফেলেন ভারতীয় তরুণ ওপেনার। সোজা ঘুরে দাঁড়িয়ে তেড়ে যান শ্রীলঙ্কান পেসার অসিতা ফার্নান্দোর দিকে, প্রায় হেলমেট ঠেকিয়ে হাতাহাতির উপক্রম!
সতীর্থরা দ্রুত এসে দুজনকে আলাদা না করলে পরিস্থিতি হয়তো আরও মারাত্মক হতে পারত। মাঠের সেই উত্তপ্ত ঘটনা নিয়েই এবার কথা বলেছেন ভারতের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উস্কানি যাই থাকুক, জয়সওয়ালের এভাবে প্রতিপক্ষের অতটা কাছে যাওয়া একদমই উচিত হয়নি।
কলম্বো টেস্টের প্রথম দিনেই ঘটে এই অপ্রীতিকর ঘটনা। ফার্নান্দোকে পরপর তিনটি চার মেরে দারুণ ছন্দে ছিলেন জয়সওয়াল। তবে শেষ হাসি হাসেন লঙ্কান পেসারই; দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে জয়সওয়ালের স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেন। উইকেট পাওয়ার পর উদযাপনের সময় স্বাগতিকদের পক্ষ থেকে আসা উস্কানিমূলক মন্তব্যের কারণেই মূল ঝামেলার সূত্রপাত।
দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক বলেন, ‘আমার মনে হয় বোলার কিছু একটা বলেছিল, আর উত্তেজনার বশেই ঘটনাটি ঘটে গেছে। তবে পরিস্থিতি যাই হোক, জয়সওয়ালের এভাবে প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারের অতটা গা ঘেঁষে দাঁড়ানো ঠিক হয়নি।’
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার ফাস্ট বোলিং কোচ রায়ান ভ্যান নিকার্কও প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বিষয়টিকে মাঠের আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন, ‘আমি বোলারদের একটু তেতে ওঠার পরামর্শ দিয়েছিলাম। মুখের এই লড়াই হয়তো সেই উত্তেজনারই ফল। বাকিটা ম্যাচ রেফারিই বিচার করবেন।’
কঠোর শাস্তির মুখে জয়সওয়াল?
ক্রিকেটে শারীরিক সংঘাত বা অসৌজন্যমূলক আচরণ বড় ধরনের অপরাধ। ফলে কয়েক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের সিদ্ধান্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে তার ভাগ্য। অবশ্য জয়সওয়ালের জন্য এই বিতর্ক নতুন কিছু নয়; ঘরোয়া ক্রিকেটে অতিরিক্ত স্লেজিং করার কারণে নিজের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেই তাকে একসময় মাঠ থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
ঘটনার আগে ৪৫ রান করেন জয়সওয়াল। দেবদূত পাডিক্কালের ১১৭ রানের ওপর ভর করে প্রথম দিন শেষে ৫ উইকেটে ৩০০ রান তুলেছে ভারত।