ম্যাকাই টেস্ট

ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে যেখানে শরিফুল টেস্ট ইতিহাসে প্রথম!

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দিনের খেলার শেষ দিকে ধারাভাষ্যকার বলে উঠলেন- শরিফুল দ্য কামব্যাক ইসলাম! আসলেই তো তা-ই। যে দিনটা হওয়ার কথা ছিলো কেবলই হতাশার, সেখানে আশার বাতি জ্বালিয়ে রাখলেন তিনি। দেড়শো বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম হিসেবে একটা জায়গায় নামও উঠে গেল তার। 

ডারউইনে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের ম্যাচে চোটের কারণে ছিলেন না শরিফুল। দুরন্ত ছন্দে থাকা বাঁহাতি পেসার ফিরেই দেখালেন ঝলক। প্রথমে ব্যাট হাতে দলের চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১১ নম্বরে নেমে করলেন ১৪, সেটাই ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ!

পরে বল হাতে ক্যারিয়ারসেরা স্পেলে ৩৫ রানে নিলেন ৬ উইকেট। এগারো নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ রান আর কমপক্ষে পাঁচ উইকেট পাওয়া প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার তিনি।

ম্যাকাইতে প্রথম দিনে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। যা নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন। কোণঠাসা অবস্থায় বল হাতেও হাল ছাড়েননি শরিফুল।

বোলিংয়ে এসেই জোড়া আঘাত হানেন তিনি। ৪১ রানে ৩ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়াকে ৭৭ রানের জুটি পাইয়ে দেন স্টিভেন স্মিথ-ক্যামেরন গ্রিন। অফ স্টাম্পে পড়ে ভেতরে ঢোকা বলে স্মিথকে এলবিডব্লিউ করে এই জুটি ভাঙেন তিনি। অ্যালেক্স কেরি মেহেদী হাসান মিরাজের বলে উইকেট ছুঁড়ে দিলে আবার শরিফুলের আগমন।

এবার একে একে তিন শিকার ধরেন তিনি। বো ওয়েবস্টারকে দুর্দান্ত ইনসুইঙ্গারে এলবিডব্লিউ করার পর প্যাট কামিন্সকে সারপ্রাইজ বাউন্সারে বানান উইকেটের পেছনে ক্যাচ। খানিক পর মিচেল স্টার্কের স্টাম্প উপড়ে ছয় শিকার ধরেন তিনি। শরিফুলের কারণেই ৬৪ রানে গুটিয়েও টেস্ট জয়ের স্বপ্ন এখনো দেখছে বাংলাদেশ।

প্রথম দিন শেষে ১০১ রানে এগিয়ে অজিরা। হাতে আছে ২ উইকেট। এখনো ম্যাচ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো ব্যাট করলে বাংলাদেশ ভালোভাবেই ফেরার সুযোগ পাবে।

১৮ উইকেটের দিনে দুই বাঁহাতি স্টার্ক আর শরিফুল নিয়েছেন ১২ উইকেট। স্টার্ক ১২ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার সময়ও করেছেন রেকর্ড। প্রথম বলেই টেস্টে চতুর্থবার উইকেট পেলেন তিনি। যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। প্রথম ওভারে উইকেট পেলেন নবমবার, এটাও ইতিহাসে সর্বাধিক।