কার পক্ষে কথা বলবে ম্যাকাইয়ের পিচ?
ডারউইনের প্রথম টেস্টের উইকেট যেন ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য অর্ডার করা। অস্ট্রেলিয়ার মূল ভেন্যুগুলোর মতো বাউন্স-গতি ছিল না, তবে ছিল মুভমেন্ট। যা কাজে লাগিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা, পরের দিকে স্পিনও ধরেছে ভালো, সেটাও পক্ষে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তদের। তবে মানচিত্রের আরেক পাশের ভেন্যু ম্যাকাইতে উইকেট কেমন হবে তার কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। কারণ সেখানে টেস্টই যে আগে হয়নি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও হয়েছে খুব সামান্য।
এখন পর্যন্ত কেবল পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচের সাক্ষী ম্যাকাই। তবে সেই ম্যাচগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, এটি একটি পেস-সহায়ক পিচ, যেখানে স্পিনারদের তুলনায় পেসাররা প্রায় আড়াই গুণ বেশি উইকেট পেয়েছেন।
ডারউইন টেস্ট জিতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছে, অর্জন করেছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ। এবার শান্তদের সামনে এসেছে আরও বড় সুযোগ। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় আগামী শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্টটি যদি নাজমুল হোসেন শান্তর দল জিততে পারে কিংবা ড্র করতে পারে, তবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসবে তারা।
অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হতে যাওয়া ম্যাকাইয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের অভিষেক হয়েছিল ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে। সেই প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে কুইন্সল্যান্ডের কাছে ২৭৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল শ্রীলঙ্কা। এরপর এই মাঠে লাল বলের ক্রিকেট ফিরতে সময় লেগেছে আরও ২০ বছর।
কুইন্সল্যান্ড ম্যাকাইয়ে দুটি শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ খেলেছে—২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে। বাকি দুটি ম্যাচ খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া 'এ' দল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ড 'এ' দলের বিরুদ্ধে একটি গোলাপি বলের দিবা-রাত্রির ম্যাচ আয়োজন করেছিল অস্ট্রেলিয়া 'এ'।
এই ভেন্যুতে শেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচটি হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে, যেখানে ভারত 'এ' দলকে ৭ উইকেটে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া 'এ'। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি টেস্ট খেলা ব্রেন্ডন ডগেট প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচের তারকা হয়েছিলেন।
ম্যাকাইয়ের পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে পেস বোলাররাই দাপট দেখিয়েছেন। পেসাররা ২৩.৬৭ গড়ে ১২২টি উইকেট নিয়েছেন, যেখানে স্পিনারদের শিকার ৩১.৭৬ গড়ে ৫০টি উইকেট। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় সবচেয়ে সফল বোলার অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার মাইকেল কাসপ্রোভিচ, যিনি ৭.৯১ গড়ে ১২টি উইকেট নিয়েছেন। কাসপ্রোভিচ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩৮টি টেস্ট, ৪৩টি ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন।
এই ভেন্যুতে প্রথম ইনিংসে গড় রান ২৫৭। টসজয়ী অধিনায়কেরা ৬০ শতাংশ ম্যাচে (পাঁচটির মধ্যে তিনটি) ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আর টসজয়ী দল জিতেছে ৮০ শতাংশ ম্যাচেই।
টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ম্যাকাইয়ে এ পর্যন্ত তিনটি ওয়ানডে আয়োজন করা হয়েছে। ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হলেও ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার বিশ্বকাপের সেই ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। এরপর আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেট ফিরতে সময় লেগেছিল দীর্ঘ ৩৩ বছর। ২০২৫ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়া যখন দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলে, তখন আবার এখানে ওয়ানডে ক্রিকেট ফেরে।
প্রায় এক বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে ম্যাকাইয়ে। ডারউইনের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ কি পারবে তাদের টেস্ট ইতিহাসে নতুন কোনো অধ্যায় যোগ করতে?