১৪ উইকেটের দিনে পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্টে রোমাঞ্চের আভাস
টেস্ট ক্রিকেটের ভাষায় তৃতীয় দিনকে বলা হয় 'মুভিং ডে'। ত্রিনিদাদের তারৌবার মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের মধ্যকার টেস্টটি সোমবার যেন অভাবনীয় গতিতে সামনে এগোল। এক দিনেই পড়ল ১৪টি উইকেট! জাস্টিন গ্রিভসের তোপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৯ রানের লিড পেলেও, পরবর্তীতে পাকিস্তান পেসারদের তোপে স্বাগতিকরাও হারায় ৭ উইকেট। পিচ ক্রমেই ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন হেলে রয়েছে এক অনিশ্চিত রোমাঞ্চের দিকে।
গ্রিভস তাণ্ডবে পাকিস্তানের ধস
প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩১১ রানের জবাবে পাকিস্তান দিন শুরু করেছিল ১১২ রানে পিছিয়ে থেকে। পাকিস্তানের হয়ে চাপ সামলে দুর্দান্ত এক শতক হাঁকান শান মাসুদ। অধিনায়কত্ব হারানোর পর প্রথম ম্যাচেই টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম শতক তুলে নিয়ে নিজের শক্ত অবস্থানের কথা জানান দেন তিনি। তবে তার ও সালমান আগার লড়াইয়ের পর গল্পটা পুরোপুরি লিখে নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডিয়াম পেসার জাস্টিন গ্রিভস।
পরপর চার ওভারে কোনো রান না দিয়ে উইকেট তুলে নেওয়ার অভাবনীয় কীর্তি গড়ে পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন গ্রিভস। শান মাসুদকে (১০৯) বোল্ড করার পর আমির জামাল ও আলী উসমানকে একের পর এক ফেরান তিনি। রানের খোঁজে থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ান ও মোহাম্মদ আব্বাসও তার শিকার হন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির ঠিক পরেই নিজের পঞ্চম উইকেটটি তুলে নেন গ্রিভস। মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ২৮২ রানে অলআউট হয়।
আব্বাস-আলীর তোপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাল্টা ধস
২৯ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান পেসারদের সুইং ও অসমান বাউন্সের মুখে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসের চেয়েও মারাত্মক রূপ নেন পাক পেসাররা।
উইকেট শিকারের তাণ্ডব শুরু করেন মোহাম্মদ আব্বাস। ব্র্যান্ডন কিং ও কাভেম হজকে চার বলের ব্যবধানে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান তিনি। চা বিরতির ঠিক আগে আমির জঙ্গুকে নিজের ক্যাচ বানান মোহাম্মদ আলী। চা বিরতির পর শাই হোপ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও আলীর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন।
ট্যাগেরাইন চন্দ্রপল (৩৫) এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালাচ্ছিলেন। গ্রিভসকে সঙ্গে নিয়ে ৪০ রানের জুটিতে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করলেও আমির জামালের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে চন্দ্রপল নিজের উইকেট উপহার দেন। আব্বাসের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে গ্রিভস ও রস্টন চেজ দ্রুত বিদায় নিলে ৯৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে মারাত্মক সংকটে পড়ে ক্যারিবিয়ানরা।
দিন শেষে ক্যারিবীয়দের ভরসা জোসেফ-রোচ
সংকটকালে প্রথম ইনিংসের মতো আবারও রুখে দাঁড়ান শামার জোসেফ। আমির জামালের দুই ওভারে ৩টি ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। একটি কঠিন ক্যাচ রিজওয়ানের হাত থেকে ফসকানোর সুযোগ নিয়ে কেমার রোচকে সঙ্গে নিয়ে দিনের বাকি সময়টা পার করে দেন জোসেফ।
তৃতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১২৬ রান। শামার জোসেফ ২২ ও কেমার রোচ অপরাজিত আছেন। বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৫ রানে।
পিচের যা অবস্থা, তাতে চতুর্থ দিনে স্কোরবোর্ডে লিড ২০০ ছুঁইছুঁই নিয়ে যাওয়াই হবে স্বাগতিকদের প্রধান লক্ষ্য। আর পাকিস্তানি পেসারদের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত বাকি ৩ উইকেট তুলে নিয়ে নাগালে থাকা লক্ষ্য তাড়া করা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩১১ ও ১২৬/৭ (চন্দ্রপল ৩৫, জোসেফ ২২*; আব্বাস ৩/১৪, শাহজাদ ২/৩৬)।
পাকিস্তান: ২৮২ (শান মাসুদ ১০৯, ইমাম-উল-হক ৬৩; গ্রিভস ৫/২৭, রোচ ২/৫৩, জোসেফ ২/৫৮)।
অবস্থান: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫৫ রানে এগিয়ে।