দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অগ্রাধিকার নয়, ২০২৭ বিশ্বকাপে পুরো ফিট হার্দিককে চায় ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক

আইপিএল থেকেই চোটের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছেন হার্দিক পান্ডিয়া। মাঠের বাইরে থাকার দীর্ঘ লড়াই শেষ করে অবশেষে আলো দেখতে পাচ্ছেন এই ভারতীয় অলরাউন্ডার। মাঝে কোয়াড্রিসেপসের চোটে পড়ে আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ মিস করলেও, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) মনোভাব এখন একদম পরিষ্কার—মাঝপথের ছোটখাটো সিরিজে তাকে নামিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার আর কোনো ইচ্ছে নেই বোর্ডের। লক্ষ্য একটাই, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে একদম সেরা চেহারায় হার্দিককে পাওয়া। তাই আপাতদৃষ্টিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তাকে খেলানো বিসিসিআইয়ের অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে থাকছে না।

ভারতীয় ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'রেভস্পোর্টস'-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে হার্দিকের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি। বিসিসিআই সেন্টার অব এক্সিলেন্সে রিহ্যাব শেষ করে ফিটনেস ক্লিয়ারেন্সের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন ৩২ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। কিন্তু আফগানিস্তান সিরিজের ঠিক আগে কোয়াড্রিসেপসের চোটে ফের একটু পিছিয়ে যান তিনি।

তবে তা নিয়ে আর কোনো হুড়োহুড়ি করতে চায় না বোর্ড। তাৎক্ষণিক কোনো সিরিজ দিয়ে মাঠে ফেরানোর বদলে তার জন্য সাজানো হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী 'পারফরম্যান্স ব্লক' প্রোগ্রাম। উদ্দেশ্য—ধীরে ধীরে তাকে শতভাগ ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের শিখরে নিয়ে যাওয়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবার পুরোনো ছন্দে ফেরার খুব কাছাকাছিই আছেন তিনি।

পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সূত্র জানিয়েছে, ‘মাঝে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও হার্দিকের ফেরার প্রক্রিয়া এখন একদম সঠিক পথেই রয়েছে।’

তাহলে কি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দেখা যাবে না হার্দিককে?

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বিশ্বমঞ্চে হার্দিককে শতভাগ কার্যকর হিসেবে পেতে চায় ভারতের বোর্ড ও দল ব্যবস্থাপনা। তাই মাঝের দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো নিয়ে বিন্দুমাত্র তাড়াহুড়ো নেই তাদের।

সব সিরিজে না খেললেও তিনি যখনই মাঠে নামবেন, ৫০ ওভারের ম্যাচকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

টিম ম্যানেজমেন্টের সংশ্লিষ্ট একজন গণমাধ্যমটিকে বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ২০২৭ বিশ্বকাপ। সেই মহাযজ্ঞে পুরোপুরি ফিট এক হার্দিককে ভারতীয় দলের বড্ড প্রয়োজন। তার চোটের ইতিহাস মাথায় রেখেই এই মুহূর্তে দ্বিপাক্ষিক সাদা বলের ক্রিকেট নিয়ে আমরা ভাবছি না। বিশ্বকাপের আগের একটি বছর তাকে মূলত ওয়ানডে ক্রিকেটেই বেশি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

পরিকল্পনার বিষয়টি স্পষ্ট করে সেই সূত্র আরও যোগ করেন, ‘একটি বিশেষ প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি যাচ্ছেন। বিশ্বকাপে তাকে শতভাগ প্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া যাবে—এ নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।’

মাঠের বাইরে পুনর্বাসন চলার পাশাপাশি আইপিএলের প্রস্তাবিত ট্রেড উইন্ডো ঘিরেও সমান আলোচনায় আছেন হার্দিক। ভেতরের খবর, কলকাতা নাইট রাইডার্স কিংবা চেন্নাই সুপার কিংসের মতো শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর রাডারে ভালোভাবেই আছেন এই তারকা।