অ্যাটকিনসনের আগুনে বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে ইংল্যান্ডের জয়
লর্ডসের সঙ্গে গাস অ্যাটকিনসনের ভালোবাসা গল্পটা নতুন কিছু নয়। এ মাঠে বরাবরই যেন ভিন্ন অ্যাটকিনসনকে দেখা যায়। আরও একবার তার প্রমাণ রাখলেন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ১১৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে শুভসূচনা করেছে ইংল্যান্ড।
জয়ের জন্য ২৫৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু মধ্যাহ্নভোজের আগেই মাত্র ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ক্রিকেটের ঐতিহাসিক এই মাঠে এটি ছিল ১৫০তম টেস্ট ম্যাচ, যা বিশ্বের কোনো ভেন্যুতেই সর্বোচ্চ।
সারের পেসার অ্যাটকিনসন ৩০ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন। লর্ডসে মাত্র তিনটি টেস্ট খেলেই এটি তার চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কীর্তি। তার বোলিংয়েই ১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
তবে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে আরেক পেসার অলি রবিনসনের হাতে। দুই বছরেরও বেশি সময় পর টেস্ট দলে ফিরে পুরো ম্যাচে ৭ উইকেট নেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৩৯ রানে ৫ উইকেট শিকারের সময় একটি মেডেন ওভারে টানা তিন উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তিও গড়েন রবিনসন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১৩ রানে অলআউট হয়েছিল।
ইংল্যান্ডের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন অভিষিক্ত ওপেনার এমিলো গেও। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ৫৭ রানই ইংল্যান্ডকে ২২৬ রানের সংগ্রহ এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখে।
রোববার সকালে ৫৫ রানে ৫ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ডের হয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন ডেভন কনওয়ে এবং গ্লেন ফিলিপ্স। সপ্তম উইকেটে তারা ৫৩ রানের জুটি গড়েন, যা ছিল পুরো ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ জুটি।
কনওয়ে ৪১ রান করে আউট হন। অন্যদিকে ফিলিপস শেষ পর্যন্ত ৪৪ রানে অপরাজিত থাকলেও দলকে পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেননি।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কনওয়ের উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এরপর আতকিনসন দ্রুতই নাথান স্মিথ ও কাইল জেমিসনকে ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডকে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেন।
শেষ পর্যন্ত ম্যাট হেনরিকে বোল্ড করে ইনিংস শেষ করেন আতকিনসন। ১১.৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেওয়া এই পেসারই হয়ে ওঠেন ইংল্যান্ডের জয়ের প্রধান নায়ক।
অস্ট্রেলিয়ায় ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ হারার পর এটি ছিল ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট। সেই হতাশা কাটিয়ে দাপুটে জয় দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করল তারা।
তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ১৭ জুন, লন্ডনেরই আরেক ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু ওভালে।