‘মাঠে ৫০ জন মানুষ আর একটি কুকুর’, আম্পায়ার ইরাসমাসের অন্যরকম বিদায়
ক্রিকেট মাঠে দীর্ঘ ২৬ বছরের এক বর্ণাঢ্য যাত্রার অবসান ঘটছে আজ। ২০০০ সালে ক্লাব ক্রিকেট দিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, তা থামছে দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লের বোল্যান্ড পার্কে। ঘরোয়া ক্রিকেটের একটি লিস্ট 'এ' ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের মাধ্যমেই আজ নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন কিংবদন্তি আম্পায়ার মারাইজ ইরাসমাস।
বোল্যান্ড ও লায়ন্স-এর মধ্যকার এই ম্যাচটি নিয়ে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের সঙ্গে আলাপকালে ইরাসমাস কিছুটা কৌতুক করেই বলেছিলেন, ‘হয়তো মাঠে সাকল্যে ৫০ জন মানুষ আর একটি কুকুর থাকবে।’
অনেকের কাছে এমন সাদামাটা বিদায় হয়তো অনেকের কাছে বেমানান মনে হতে পারে, কিন্তু প্রচারবিমুখ ও শান্ত স্বভাবের ইরাসমাসের কাছে এটিই কাঙ্ক্ষিত, ‘আমি খুশি যে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছি। মাঠের আম্পায়ারিং নিয়ে অনুপ্রেরণা হয়তো আমার শেষ টেস্টের পরেই ফুরিয়ে গিয়েছিল।’
গত মাসেই ৬২ বছরে পা দেওয়া এই আম্পায়ারের ঝুলিতে রয়েছে ৮২টি টেস্ট, ১২৫টি ওয়ানডে এবং ৬১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে থেকে পরিচালনার অভিজ্ঞতা। এছাড়া টিভি আম্পায়ার হিসেবেও তিনি ১৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। আইসিসির চোখে তিনি তিনবার (২০১৬, ২০১৭ ও ২০২১) বিশ্বের সেরা আম্পায়ার নির্বাচিত হয়ে ‘ডেভিড শেফার্ড ট্রফি’ জিতেছেন।
মাঠে যেকোনো পরিস্থিতিতে অবিচল থাকা এবং বড় বড় তারকাদের সঙ্গেও সহজ সম্পর্কের কারণে ইরাসমাস সবসময়ই ক্রিকেটারদের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। ২০১৪ সালে অ্যাডিলেড টেস্টে বিরাট কোহলির অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচে ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার সেই উত্তেজনাকর লড়াইয়ের কথা এখনো সবার মনে আছে। ডিআরএস বিহীন সেই সিরিজে ইরাসমাসের দিকে ৪৩ বার আউটের আবেদন ছুড়ে দিয়েছিলেন খেলোয়াড়রা, যার মধ্যে ৪০ বারই তার সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত হয়।
তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিতর্কও কম ছিল না। ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে আসা ওভারথ্রোতে ছয় রান দেওয়ার সেই সিদ্ধান্তটি কিউই সমর্থকরা হয়তো কোনোদিন ভুলবে না। এছাড়া ২০২৩ বিশ্বকাপে দিল্লিতে সাকিব আল হাসানের আবেদনে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে ‘টাইমড আউট’ দেওয়ার সেই ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সময়ও ফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন এই ইরাসমাসই। যদিও নিয়ম অনুযায়ী সাকিবের অনড় অবস্থানের কারণে তার হাতে তখন অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।