নারী বিপিএল পিছিয়ে গেল জুলাইয়ে, হতাশ ক্রিকেটাররা

সামসুল আরেফীন খান
সামসুল আরেফীন খান

নারী ক্রিকেটের প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়বদ্ধতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠল। আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লিউবিপিএল) প্রথম আসর জুলাই মাসে পিছিয়ে দিল বোর্ড। বিসিবির এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতাশায় ডুবছেন ক্রিকেটাররা।

গত বুধবার বিসিবি জানায়, তিন দলের এই ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি আগামী ৪-১৪ এপ্রিলের পরিবর্তে ১০-২১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। বগুড়া, চট্টগ্রাম ও ঢাকা— এই তিন ভেন্যুতে বসবে আসরটি। বিসিবির ভাষ্য, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে দল গঠন ও বিদেশি খেলোয়াড় নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। তবে নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সফরসূচি (এফটিপি) অনুযায়ী, জুলাইয়ের ওই সময়ে কেবল অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের কোনো আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা নেই।

আগামী ১৪ মার্চ খেলোয়াড় বাছাইয়ের জন্য ড্রাফট হওয়ার কথা ছিল। এর মাত্র কয়েক দিন আগে এমন সিদ্ধান্তে চরম হতাশ খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর আগে ক্লাবগুলোর আপত্তির মুখে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ও প্রথম বিভাগ লিগ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বোর্ড। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নির্ভরযোগ্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের অনাগ্রহ এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বোর্ডের মধ্যকার অস্থিরতাই এই টুর্নামেন্ট পিছিয়ে যাওয়ার মূল কারণ।

সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী দল। জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিপিএল হলে তা প্রস্তুতির বড় মঞ্চ হতে পারত। বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ এবং স্কটল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ থাকলেও জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটারদের জুলাই পর্যন্ত অলস বসে থাকতে হবে। এটি যেমন তাদের ম্যাচ পরিস্থিতিতে অনুশীলনে ঘাটতি তৈরি করবে, তেমনি ফেলবে আর্থিক সংকটেও। বর্তমানে টাইগ্রেসরা বিকেএসপিতে নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে।

জাতীয় দলের ওপেনার দিলারা আক্তার গতকাল বৃহস্পতিবার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সবাই বলছে, বিশ্বকাপের আগে আমাদের খেলার ভালো সুযোগ ছিল। আমরা তো খুব একটা টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পাই না। ম্যাচ খেলাটা খুব জরুরি। এখানে একটা ভালো সুযোগ হতে পারত, কিন্তু হলো না।'

জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের একজন সদস্যও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বৈশ্বিক আসরের আগে খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করার একটি মূল্যবান সুযোগ হাতছাড়া হলো।

পরিকল্পনার অভাব নিয়ে বিসিবির কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদ। তিনি বলেন, 'এমন একটি লিগ খুব দরকার ছিল। বিশ্বকাপের জন্য এটি চমৎকার প্রস্তুতি হতো এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ পাওয়া যেত। এই টুর্নামেন্টের জন্যই তো ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত করা হয়েছিল।'

ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো স্থায়ী বার্ষিক সূচি না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন রুমানা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেও মেয়েরা ঠিকঠাক প্রস্তুতির সুযোগ পায়নি। এমনকি প্রথম বিভাগ বা প্রিমিয়ার লিগেরও কোনো নির্দিষ্ট সূচি নেই। নারী ক্রিকেট সব সময় এক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে।' ঘরোয়া লিগ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল কীভাবে নির্বাচন করা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।