ফোন বন্ধ, জানালা বন্ধ, নিজেকে গুটিয়ে নিয়েই নায়ক স্যামসন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে নিজেকে যেন একেবারে গুটিয়ে নিয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন। ফোন বন্ধ, জানালা বন্ধ। বাইরের সব শব্দ থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজের ভেতরেই খুঁজছিলেন নতুন শক্তি। সেই কঠিন সময় পেরিয়েই এখন ভারতের হয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নায়ক হয়ে উঠেছেন এই উইকেটকিপার–ব্যাটার।
বিশ্বকাপে ভারতের জার্সিতে স্যামসন যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, তা সত্যিই নাটকীয়। প্রথমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কার্যত নকআউট ম্যাচে এবং পরে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে থামতে হয়েছে। একটিতে অপরাজিত ৯৭, অন্যটিতে ৮৯ রান। তবে শতরান না হলেও সেই দুই ইনিংস ভারতের জন্য ছিল অমূল্য। চাপে ভরা দুই ম্যাচেই তার ব্যাটই ভারতকে এনে দিয়েছে জয়।
সবচেয়ে বড় বিষয়, বিশ্বকাপ শুরুর সময় ভারতের মূল একাদশে স্যামসনের জায়গাই নিশ্চিত ছিল না। কিন্তু কয়েকটি ম্যাচের মধ্যেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন দলের অন্যতম ভরসাযোগ্য ব্যাটার হিসেবে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইনিংস গড়ে তোলা এবং ম্যাচ শেষ করে আসার ক্ষমতা দেখিয়ে দলের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি।
তবে এই উত্থানের পেছনে ছিল এক কঠিন মানসিক লড়াই। স্যামসন নিজেই জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের আগে সময়টা তার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড সিরিজে দলে জায়গা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত চাপ নিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন তিনি।
স্যামসনের ভাষায়, “সময়টা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। দেশের হয়ে অবদান রাখতে এবং বিশ্বকাপে ম্যাচ জিততে আমি খুবই আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু নিউজিল্যান্ড সিরিজে হয়তো একটু বেশি চেষ্টা করে ফেলেছিলাম। একাদশে জায়গা পেতে চেয়েছিলাম বলেই এমনটা হয়েছে। টি–টোয়েন্টি ক্রিকেট খুব অদ্ভুত হতে পারে, বিশ্বের সেরা ব্যাটাররাও এই ফরম্যাটে রান করতে হিমশিম খায়। তাই আমাকে খেলাটাকে সম্মান করতে হয়েছে এবং নিজের মৌলিক জায়গায় ফিরে যেতে হয়েছে।”
এই কঠিন সময় কাটাতে নিজের কাছের মানুষদের অবদানও স্মরণ করেছেন স্যামসন। তিনি জানান, বাইরের চাপ ও সমালোচনা থেকে দূরে থাকতে ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজেকে আলাদা করে নিয়েছিলেন।
স্যামসন বলেন, “কঠিন সময় যখন এসেছিল, তখন আমার কাছের মানুষরা পাশে ছিল। আমি সব জানালা বন্ধ করে দিয়েছিলাম, ফোনও বন্ধ রেখেছিলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও দূরে ছিলাম, এখনও আছি। কম শব্দ, কম মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, এগুলো আমাকে সঠিক পথে মনোযোগ দিতে সাহায্য করেছে। এখন আমি খুব খুশি, কারণ মনে হচ্ছে ঠিক পথেই এগোচ্ছি।”