বিসিএল

বগুড়ায় গ্যালারিতে উপচে পড়া ভিড় দেখে মুগ্ধ আকবর

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্র থেকে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম ছিটকে গেছে প্রায় দুই দশক হতে চলল। কিন্তু এই শহরের মানুষের ক্রিকেট তৃষ্ণা যে একটুও কমেনি, তার প্রমাণ মিলল বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে। গতকাল সকাল থেকেই স্টেডিয়াম অভিমুখে দর্শকদের স্রোত জানান দিচ্ছিল, বগুড়া আজও ক্রিকেটের জন্য কতটা উন্মুখ।

দর্শকদের এই প্রবল ভালোবাসার দিনে মাঠের নায়ক ছিলেন আকবর আলী। উত্তর অঞ্চলের এই ব্যাটারের বিধ্বংসী ১১১ রানের ওপর ভর করে ৫৪ রানের জয় পেয়েছে তার দল। তবে ম্যাচ জয়ের চেয়েও আকবরকে বেশি আপ্লুত করেছে গ্যালারির গর্জন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে দর্শকদের জন্য মাত্র দুটি গ্যালারি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সকাল গড়াতেই দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে তৃতীয় গ্যালারিটিও খুলে দেয়। বিপিএলের বাইরে ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন দৃশ্য ইদানীং বিরল।

ম্যাচ শেষে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে আকবর নিজের বিস্ময় লুকাননি, 'পুরো স্টেডিয়ামের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ দর্শক পূর্ণ ছিল। সকাল থেকে যেভাবে মানুষ মাঠে এসেছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন দৃশ্য আমরা সচরাচর দেখতে অভ্যস্ত নই।'

সাধারণত বিপিএল ছাড়া বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে গ্যালারি খাঁ খাঁ করে। কিন্তু বগুড়ার চিত্র ছিল ভিন্ন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক মনে করেন, এমন পরিবেশ ক্রিকেটারদের বাড়তি অনুপ্রেরণা দেয়।

আকবর বলেন, 'আমাদের জন্য এটা একদম অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। বিপিএল ছাড়া ঘরোয়া ম্যাচে সাধারণত এমন দর্শক দেখা যায় না। আমার মনে হয় ক্রিকেটের জন্য এই ধরনের দর্শক উপস্থিতি খুবই ইতিবাচক এবং আমরা একে স্বাগত জানাই।'

বগুড়ায় সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০০৬ সালে। এরপর থেকে বড় বড় টুর্নামেন্ট এখানে খুব একটা হয় না। তবে যখনই সুযোগ আসে, বগুড়াবাসী তা হাতছাড়া করেন না। পূর্বাঞ্চলের হয়ে ৮৩ রান করা অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হকও দর্শকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

মুমিনুল বলেন, 'বগুড়ার মানুষ সত্যিকারের ক্রিকেটপ্রেমী। আমি যখনই প্রিমিয়ার লিগ বা এইচপি ক্যাম্পের জন্য এখানে এসেছি, দেখেছি যে এখানে খেলা কম হয় বলে মানুষ সুযোগ পেলেই মাঠে ছুটে আসে। দর্শকদের সামনে খেলা সবসময়ই আনন্দের।'

নিজের প্রথম লিস্ট 'এ' সেঞ্চুরির দিনে দর্শকদের এই সমর্থন আকবরের স্মৃতিতে এই মাঠটিকে চিরস্থায়ী জায়গা করে দিয়েছে। নির্বাচকদের গুডবুকে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে থাকা এই ব্যাটারের জন্য বগুড়ার এই শতভাগ ক্রিকেটীয় পরিবেশ ছিল বড় এক প্রাপ্তি।