আকবর–আফিফের জোড়া সেঞ্চুরিতে সূচনা বিসিএলের
দুই তরুণ ব্যাটারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর বিরল দর্শকসমাগম, সব মিলিয়ে দারুণ আবহে শুরু হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে নর্থ জোন ও ইস্ট জোনের ম্যাচে উপচে পড়া ভিড় যেন ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।
প্রথমে দুটি গ্যালারি খোলা থাকলেও দর্শকের ঢল নামায় পরে আরেকটি গ্যালারিও খুলতে হয়, যা দেশের ঘরোয়া ম্যাচে খুব কমই দেখা যায়।
নর্থ জোনের অধিনায়ক আকবর আলী দর্শকদের নিরাশ করেননি। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেন তিনি, মাত্র ৮৭ বলে ১১১ রানের ঝলমলে ইনিংস।
শুরুটা ভালোই করেছিল নর্থ জোন। তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৮২ রান। তামিম ৫৪ রান করে ফিরলেও দ্রুত লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় আউট হয়ে গেলে ২০ ওভারে দলটির সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১১৮।
এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন আকবর। শান্তকে নিয়ে ১২০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। শান্ত ৬৮ রান করে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত ইনিংস টেনে নিয়ে যান আকবরই। শেষ দিকে আবদুল গফ্ফার সাকলাইন ও শরিফুল ইসলামের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে নর্থ জোন অলআউট হওয়ার আগে তোলে বিশাল ৩৩৫ রান।
বল হাতে খালেদ আহমেদ নেন চার উইকেট, আর হাসান মাহমুদ পান দুটি।
৩৩৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ইস্ট জোন। অধিনায়ক মুমিনুল হক ৮৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও নিয়মিত উইকেট হারানোয় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় দলটি। ইয়াসির আলীর ৪২ ও নাঈম হাসানের অপরাজিত ৫০ ছাড়া বড় অবদান ছিল না কারও।
নর্থ জোনের হয়ে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রিশাদ হোসেন। শেষ পর্যন্ত ইস্ট জোন অলআউট হয় ২৮১ রানে।
অন্য ম্যাচে সেন্ট্রাল জোনকে সাত উইকেটে হারিয়েছে সাউথ জোন, যার নায়ক আফিফ হোসেন। তিনি খেলেন ৮৬ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস।
আগে ব্যাট করে সেন্ট্রাল জোন তোলে ৭ উইকেটে ২৬৪ রান। মোহাম্মদ নাঈম, মাহফিজুল ইসলাম ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের অর্ধশতকে এই সংগ্রহ পায় তারা।
জবাবে সাউথ জোন শুরুতে ভালো ভিত পায় আনিসুল ইসলামের ৪৩ ও জাওয়াদ আবরারের ৪০ রানে। এরপর আফিফের ঝলমলে শতক ও মোহাম্মদ মিঠুনের অপরাজিত ৭৫ রানে সহজেই ৪.৩ ওভার হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় দলটি।