মিনদাত শহর ছেড়েছে মিয়ানমারের সেনাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীরা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

রক্তপাত এড়াতে মিয়ানমারের মিনদাত শহর ছেড়েছে সেখানকার সেনাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীরা।

গতকাল রোববার সশস্ত্র বিদ্রোহীদের এক সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটির চিন রাজ্যের রাজধানী মিনদাতে ব্যাপক বিক্ষোভ-সমাবেশ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সেখানকার সশস্ত্র বিদ্রোহীরা নতুন করে সংগঠিত হওয়ায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের তুমুল সংঘর্ষ হয়।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের খ্রিস্টান অধ্যুষিত এই রাজ্যে সেনারা ভারি অস্ত্র নিয়ে বিদ্রোহীদের দমন করতে শুরু করেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি’র অনুগত জাতীয় ঐক্যের সরকার (এনইউজি) আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আবেদন করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি।

ভারতের সীমান্তবর্তী এই রাজ্যের বিদ্রোহীদের একজন বলেছেন, ‘রক্তপাত এড়াতে আমরা মিনদাত শহর থেকে সরে গেছি। আমরা চাই না শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হোক।’

‘যুদ্ধে জড়িতদের সবাই সেখান থেকে সরে গেছেন’ বলে যোগ করেন তিনি।

বিদ্রোহীদের একজনের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত রেডিও ফ্রি এশিয়া’র ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তাদের পাঁচ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় চিনওয়ার্ল্ড নিউজের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, চিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা ট্রাফিক পুলিশের তিন সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে। বন্দিদের মুক্তি না দিলে তাদের হত্যা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে রয়টার্স নিরপেক্ষভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

গত শনিবার সেনা-নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে বলা হয়েছে, মিনদাতে ‘বিশৃঙ্খলকারীদের’ হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

নতুন করে শক্তি সঞ্চয়

মিয়ানমারের চিন রাজ্যে সাম্প্রতিক প্রাণহানিতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে চিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করেছে। অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর মতো তারাও সামরিক সরকারের বিরোধিতা করছে।

সশস্ত্র সংগঠনগুলো নিজেদের গণতন্ত্রপন্থি এনইউজি ছায়া সরকারের অনুগত পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের অংশ হিসেবে দাবি করছে।

ছায়া সরকারের প্রধানমন্ত্রী মাহন উইন খাইং থান গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বলেছেন, ‘মিনদাতের জনগণকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি বলে ভীষণভাবে দুঃখিত। মিনদাতের বীরদের স্যালুট জানাই। একইসঙ্গে সামরিক সরকারের নিষ্ঠুর দমন-পীড়নকে প্রতিহত করতে মিয়ানমারের জনগণ নিজেদের ঝুঁকিতে ফেলায় তাদেরকেও শ্রদ্ধা জানাই।’

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর সেনাবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ৭৯০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসিস্টেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস।

আরও পড়ুন:

মিয়ানমারের বিউটি কুইন এখন সশস্ত্র বিদ্রোহী

মিয়ানমারে সেনাবিরোধী বিক্ষোভে ১০ সশস্ত্র সংগঠনের সমর্থন

মিয়ানমারে সশস্ত্র কারেন বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘাত

চীন-রাশিয়ার বিরোধিতায় আবারও মিয়ানমার নিয়ে বিবৃতি দিতে পারেনি নিরাপত্তা পরিষদ

এপির বিশ্লেষণ: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের নেপথ্যে

অভ্যুত্থান মেনে না নেওয়ার আহ্বান সু চির

যে কারণে সু চিকে সরিয়ে ক্ষমতা নিলো সেনাবাহিনী

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দায় বিশ্ব সম্প্রদায়

‘নির্বাচনে কারচুপি’র অজুহাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান

মিয়ানমারে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমার: ১৯৪৮ থেকে ২০২১