জাফরুল্লাহ চৌধুরী: কতটা সম্মানের, কতটা পেলেন
একজন জাফরুল্লাহ চৌধুরী, একজন চে, একজন গৌতম বুদ্ধ। তিন সময়ের তিনজন মানুষ। যাদের ভূগোল ও ভগবান এক ছিল না। কিন্তু কর্মগুণে, জীবনের অভীপ্সায়, বৃহত্তর মানুষের কল্যাণ ও মুক্তির দিশায় অভিন্ন বৈশিষ্ট্যর অধিকারী ছিলেন। যে বৈশিষ্ট্যের কথা আমরা চে-র কাছে ধার নিয়ে বলতে পারি, ‘হাস্তা লা ভিক্টোরিয়া সিয়েম্প্রে’-বিজয় না পর্যন্ত লড়াই কর। একজন গৌতম, একজন চে, একজন জাফরুল্লাহ চৌধুরী এই সত্যে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত রেখেছিলেন প্রবল প্রতীতি।
১৭ এপ্রিল ২০২৩, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
পহেলা বৈশাখ : বাঙালির সর্বজনীন উৎসব
নতুন বছরের প্রথম দিন এবং বিদায়ী বছরের শেষদিনকে ঘিরে নানা ধরণের আয়োজন ছুঁয়ে যায় সকল বাঙালিকেই। বিশেষত পহেলা বৈশাখের আয়োজন বাঙালির সর্বস্তরের জনজীবনকে রাঙায়িত করে নানানভাবে। বাঙালির ঘরে, জনজীবনে এবং আর্থ সামাজিক সংস্কৃতিতে এরকম উৎসব দ্বিতীয়টি নেই। রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের যেমন এই উৎসবের সঙ্গে থাকে গভীর যোগসূত্রতা, তেমনই সকল সম্প্রদায়ের, জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরাও শামিল হন এখানে।
১৪ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
স্বাধীনতার আগে ও পরে বুদ্ধিজীবীর খোঁজে
কথাসাহিত্যিক আনি এরনো ফরাসী নোবেল পেয়েছেন ২০২২ সালে। বয়স এখন ৮২ বছর। এই বয়সে হেঁটে যান মিছিলের অগ্রভাগে। ফ্রান্সজুড়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জারি রাখেন প্রতিবাদ। প্রশ্ন করেন ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য। কেবল লিখে নয়-কর্মেও পালন করেন বুদ্ধিজীবীর ধর্ম।
২৭ মার্চ ২০২৩, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন
তুলনাহীন এক উদাহরণ শামীম সিকদার
মানুষ মাত্রই মেরুদণ্ড নিয়েই পৃথিবীতে আসে। এই মেরুদণ্ড পাওয়ার জন্য কোনো কোশেশ করতে হয় না। শ্রম, নিষ্ঠা, প্রতিভা কিংবা ধ্যান, জ্ঞান, সাধনা কোনটাই লাগে না। কেননা, রাজা-প্রজা-ভৃত্য, ধনী-গরীব, এমনকি বদ্ধ উন্মাদ যে তিনিও জন্মসূত্রে একটা মেরুদণ্ড নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। এর জন্য গর্ব ও গৌরবের কিছু নেই, নেই কোনপ্রকার বাহাদুরি। কিন্তু প্রদর্শনযোগ্য মেরুদণ্ডের জন্য লাগে সাধনা ও সাহস। শামীম সিকদারের ছিল সেই প্রদর্শনযোগ্য মেরুদণ্ড। যা দেখা যেত, দেখেছেনও সবাই।
২৫ মার্চ ২০২৩, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
এক যে ছিলেন সাংবাদিক
বহুমাত্রিক শব্দের যত্রতত্র ব্যবহারে এর গুরুত্ব ও ওজস্বিতা কমেছে। যাদের নামের সঙ্গে এই শব্দ যুক্ত হলে বাড়ে কৌলিন্যতা, আবুল মনসুর আহমদ হলেন তেমনই একজন বহুমাত্রিক মানুষ।
১৮ মার্চ ২০২৩, ১২:০৪ অপরাহ্ন
বঙ্গীয় নবজাগরণে লালন যেভাবে প্রতিনিধিস্থানীয়
লালন সাঁই দীর্ঘায়ু পেয়েছিলেন এবং উনিশ শতকের প্রায় পুরোটা সময় বেঁচেছিলেন। মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত ‘হিতকরী’ পত্রিকা সূত্রে জানা যায় লালনের মৃত্যু হয় ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে। ‘হিতকরী’ তার মৃত্যুর দু’সপ্তাহ পর প্রকাশিত এক সংবাদে এ কথা উল্লেখ করেন। সেখানে জন্মের সন তারিখ বলা হয় ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক। সেই হিসেবে গোটা উনিশ শতক জুড়েই লালন তাঁর সৃষ্টির সাধনায় মগ্ন ছিলেন। মানব হিতৈষণা ও হিতাকাঙ্ক্ষাই ছিল সেই সাধনার মূল সুর ও স্বর। লালন মানবতাবাদী ছিলেন। ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণ, শ্রেণী, বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি ভেদমুক্ত সমাজ গড়নের আহবান জানিয়েছিলেন গানে গানে। গোটা ঊনিশ শতকে তো বটেই বাংলা সাহিত্যে এবং বাংলার সামাজিক রাজনৈতিক ইতিহাসের কোথাও লালনের মতো চরিত্রের উপস্থিতি নেই।
৬ মার্চ ২০২৩, ১০:২১ পূর্বাহ্ন
বাংলা ভাষার টিকে থাকার লড়াই ও একটি অনুসন্ধান
এক ছিল রাজা, তার ছিল দুই রানী। সুয়ো আর দুয়ো। দুয়ো ছিল রাজার প্রথম রানী, আর সুয়ো দ্বিতীয়। সুয়ো আসায় দুয়োর কপাল পোড়ে। রাজা সুয়োর অন্ধপ্রেমে দুয়োকে ভুলে যায় প্রায়। কিন্তু রাজার প্রকৃত মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী ছিল দুয়ো, যে থেকেছে আড়ালে অবহেলায়-দীনহীনের মতো।
২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
সৈয়দ আবুল মকসুদের দরদী মনের খোঁজে
সৈয়দ আবুল মকসুদের নানাবিধ বিষয়ে আগ্রহের কমতি ছিল না। জীবদ্দশায় তিনি সেটা প্রমাণ করে গেছেন অক্ষরে অক্ষরে। সময় নষ্ট করার ধাত ছিল না। উল্টো অংকের মতো করে কাজে লাগিয়েছেন প্রতিটা মুহূর্ত। তিনি সাংবাদিক ছিলেন। ছিলেন কবি, কলাম লেখক, গবেষক, টকশোর দুঁদে বক্তা, সামাজিক আন্দোলনের একেবারে সামনের সারির অ্যাক্টিভিস্ট, গান্ধীবাদী দেশহিতৈষক।
২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
বিরলপ্রজ এক সাধক সুবিমল মিশ্র
সত্যিকার্থে প্রতিষ্ঠানবিরোধী ছিলেন সুবিমল মিশ্র। যাকে অনেকেই কিংবা প্রত্যেকেই দেখছেন একগুঁয়েমি, ক্রোধ বা জেদ হিসেবে। সত্যিই কি তাই, নাকি প্রতিষ্ঠানবিরোধিতাকে সাধনা হিসেবে নিয়েছিলেন তিনি? তুরস্কের কবি নাজিম হিকমত বলেছিলেন বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড়োজোর এক বছর। বিংশ শতাব্দীতে নয় কেবল, একবিংশ শতাব্দেও হেরফের হয়নি শোকের আয়ুর বয়স। উপরন্তু যোগ হয়েছে একগুঁয়েমি, ক্রোধ বা জেদের আয়ু, যার দৌড় বড়জোর একবছর। সুবিমল এখানেই ব্যতিক্রম। সবার থেকে আলাদা ও স্বতন্ত্র। নিজের জেদ, একগুঁয়েমি, ক্রোধকে তিনি পরিগণিত করেছিলেন সাধনায়, যা জপ করে গেলেন আমৃত্যু। বাংলা সাহিত্যে তো বটেই ভারতের অনভাষাভাষির সাহিত্যেও এরকম উদাহরণ আক্ষরিক অর্থেই তুলনারহিত।
১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
সোহরাওয়ার্দী পরিবারের সুলুকসন্ধানী বয়ান
সোহরাওয়ার্দী বলে ‘হোসেন শহীদ’ সর্বজনে পরিচিত হলেও সোহরাওয়ার্দী কিন্তু উনার নামের অংশবিশেষও নয়, বংশের উপাধি বিশেষ। সোহরাওয়ার্দী পরিবার বাংলার তো বটেই ভারত উপমহাদেশেরই বিখ্যাত এক পরিবার। অবিভক্ত বঙ্গে রয়েছে এই পরিবারের প্রভূত অবদান। সোহরাওয়ার্দী বংশের ধারাবাহিকতা যেমন গর্ব ও গৌরবের তেমন ইর্ষণীয়ও বটে। এক হাজার বছর কিংবা তারও বেশি সময় ধরে বংশের পদচারণায় সমৃদ্ধ হচ্ছে বাঙাল মুলুক।
৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
হিরো আলম সংসদ সদস্য হলে সমস্যা কী?
হিরো আলম সত্যিই যদি সংসদ সদস্য হয়ে যান তাতে কোনো সমস্যা আছে কি? দেশের প্রচলিত আইনের নিয়ম কানুনকে মান্যতা দিয়েইতো তিনি ভোটের মাঠে নেমেছেন। তাহলে তার সংসদ সদস্য হওয়ার প্রার্থীতা নিয়ে কেন এত শোরগোল, হিংসা, কুৎসিত আক্রমণ, বিদ্রুপাত্মক শ্লেষ, অযৌক্তিক শব্দবাণ? নাকি ‘আঙুর ফল টক’ নীতিরই প্রকাশ এসব? হিরো আলম পারে, আমরা পারি না, তাই অক্ষমের সম্বল হিসেবে নেমে পড়েছে সবাই অযৌক্তিক শব্দবোমায় হিরো আলমের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধারে?
৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
বাঙালির হৃদয়ের সম্রাট শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
তিনি ছিলেন হৃদয়ের সম্রাট। কোন হৃদয়, যে হৃদয় বাঙালির। যে হৃদয় নদীমাতৃক বাংলাদেশের। যে হৃদয় ভালবাসতে জানে, ভালবাসার জন্য সর্বস্ব বাজি রাখতে পারে। সেই যে কবি বলেছিলেন, ভালবেসে কেউ কেউ খুনি হয়ে যায়। এই হৃদয় ভালবাসার জন্য খুনও করতে পারেন। এই কারণেই এ কথা বলা। যদি কেউ মনে করেন এটা কেবলই বলার জন্য, তা হলে হৃদয়ের সম্রাটের ওপর অবিচার করা হবে। যেমনটা হয়েছিল তার জীবদ্দশায়, যেমনটা হচ্ছে আজও।
১৬ জানুয়ারী ২০২৩, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন
আবুল আহসান চৌধুরী: একজন ঋত্বিক গবেষক
গবেষণাকে কীভাবে সাধনার পর্যায়ে নিয়ে যেতে হয় আবুল আহসান চৌধুরীর এষণায় তার ছাপ রয়েছে প্রোজ্জ্বলরূপে। এ জগতে তার বিস্তার ও বিস্তৃতি ঈর্ষণীয়। একজন সংগ্রাহক-সংকলক-সম্পাদক সত্তায়-তিনি সদর্থক অর্থেই প্রজ্ঞার দ্যুতি ছড়িয়েছেন। এষণার জগত পুথুলা হলেও মানে ও প্রয়োজনে স্থূল নয় মোটেই। প্রতিটি কাজেই রয়েছে আমাদের জাতিসত্তা ও জাতীয় ইতিহাস নির্মাণের আকর সব উপাদান। আবুল আহসান চৌধুরী জীবনভর এই কাজটাই করে গেছেন একজন ঋত্বিক গবেষকের সাধনমন্ত্রে।
১৪ জানুয়ারী ২০২৩, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
বাঙালির ফুটবলপ্রীতি: বিভ্রম নাকি বাস্তবতা
বাঙালির ফুটবলপ্রীতি কি যুক্তিসঙ্গত? ফুটবল নিয়ে যেকোনো জাতির চেয়ে তাদের যে প্রেম ও প্রণয়, তার মানদণ্ড কী? নাকি এখানেও রয়েছে অসম প্রেম, অজস্র প্রশ্নের তীর। বিশ্বকাপ পেয়েছে আর্জেন্টিনা, আর আমরা আর্জেন্টাইনদের চেয়েও অধিক আনন্দে মেতে উঠেছি। যেমনটা হয় ব্রাজিল জিতলেও। এটা কি বাঙালির সেই প্রবাদের খাসলত যে, ‘যার বিয়ে তার খোঁজ নেই, পাড়া-পড়শির ঘুম নেই’, নাকি অন্যকিছু।
১৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন
স্বাধীনতা প্রসঙ্গে অসামান্য এক অন্বেষণ
পৃথিবীর ইতিহাসে নীরবে ঘটে যায় মর্মন্তুদ এক অধ্যায় দেশভাগ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিংশ শতাব্দীতে যুদ্ধবিহীন এরকম ঘটনা কল্পনা করা দুরূহ হলেও, বাস্তব হয় তারও অধিক কিছু। বাস্তুচ্যুত হয় লাখ-লাখ মানুষ। কোনো ঘোষণা ছাড়াই, কোনোপ্রকার পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই ভিটেছাড়া-স্বজনহারা হয়ে পড়ে অগণন হিন্দু ও মুসলমান। যুদ্ধ ছাড়াই দানবীয় এক গণহত্যা দেখেও চুপকরে থাকে সদ্য স্বাধীন দুটি দেশ এমনকি বিশ্ব বিবেকও। ভারত ও পাকিস্তানের তড়িঘড়ি স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ ‘হঠকারিতা’র শিকার হন বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ড, যা তদানীন্তন সময়ে পূর্ব পাকিস্তান নামে যুক্ত হয় পাকিস্তানের সঙ্গে। ‘হঠকারিতা’র কথা বলা হচ্ছে এই কারণে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো যুতসই কারণ নেই। ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতিগত ভাবে তো নয়ই, ভৌগলিক ভাবেও নয়। এমনকি রাষ্ট্র বিজ্ঞানের কোনো সংজ্ঞাতেও আজোবধি এরকম কোনো দেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে, না তত্ত্বী, না ব্যবহারিক কোনভাবেই এরকম রাষ্ট্রের বাস্তবতা কোনোকালেই ছিল না।
১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
একাত্তরের গণহত্যার দালিলিক প্রমাণ
বিশ্বে গণহত্যার যত ইতিহাস রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও লোমহর্ষক গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে। যার নিপুণ কারিগর ছিলেন ইয়াহিয়া ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তারা শুধু সেদিন গণহত্যাই ঘটায়নি, সেটা জায়েজ করার নানা ফন্দি-ফিকির করেছে। এমনকি সেদিনের সেই গণহত্যা দেখে পাকিস্তান আর্মির বেলুচ সদস্যরা সেই হত্যাযজ্ঞে অংশ নিতে অস্বস্তি প্রকাশ করেছে, অনীহা জানিয়েছে। কিন্তু তাদের কাছে মিথ্যার বেসাতি হাজির করে, ভুল তথ্য দিয়ে, অগ্রহণীয়-অমার্জনীয় গল্প ফেঁদে গণহত্যায় শামিল হতে বাধ্য করেছে। সেদিনের সেই গণহত্যার মর্মন্তুদ চিত্র এঁকেছেন রবার্ট পেইন তার ‘ম্যাসাকার’ গ্রন্থে। বাংলাদেশের গণহত্যার কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রাসঙ্গিকভাবে পুরো বিশ্বের গণহত্যার প্রসঙ্গ এনেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হত্যা-ধ্বংস ও বিশ্ব রাজনীতির তথ্য উপাত্ত হাজির করেছেন।
১২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে প্রত্যাশার বিজয়
পাকিস্তানের সদ্য বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া বিদায়ের আগে আগে দেওয়া এক বক্তৃতায় বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) হাতছাড়া হওয়া সামরিক নয়, ছিল রাজনৈতিক ব্যর্থতা। লড়াইরত সেনার সংখ্যা ৯২ হাজার ছিল না, এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৪ হাজার। বাকিরা ছিলেন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন।’ এই বক্তৃতার কিছুদিন পরই মুখ খোলেন দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান হাতছাড়া হওয়াকে রাজনৈতিক নয়, সামরিক ব্যর্থতা বলে দাবি করেন তিনি।
৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
নীরদচন্দ্র চৌধুরী : তিনি আমাদেরই লোক
নীরদচন্দ্র চৌধুরী কি আমাদের লোক? দুঁদে এক প্রাবন্ধিক-আত্মজীবনী রচয়িতা-গবেষক হিসেব বিশ্বজোড়া খ্যাতি যার। বাংলা ভাষাভাষিদের কাছে তো বটেই ইংরেজিতে লেখার সুবাদে ইংরেজি ভাষার মানুষের কাছেও ছিলেন বিশেষভাবে পরিচিত ও আদৃত একজন লেখক। তিনি জন্মেছিলেন তৎকালীন পূর্ববঙ্গের কিশোরগঞ্জে। তাহলে কেনইবা আমরা নতুন করে বলছি, ‘তিনি আমাদেরই লোক’। বলছি, এই কারণে যে, তিনি নিজেকে সাম্রাজ্যবাদী বলে পরিচয় দিয়েছেন।
২৯ নভেম্বর ২০২২, ০২:৪০ অপরাহ্ন
প্রশ্নহীন সমাজে মেধাজীবীর ভূমিকা
মেধাজীবীর দায়’; শিরোনামে এডওয়ার্ড সাইদ রেইথ বক্তৃতা করেছিলেন ১৯৯৩ সালে। ‘অরিয়েন্টালিজমে’র সাইদকে আমরা চিনি ১৯৭৮ সাল থেকে। যেখানে হাজির করেছিলেন পশ্চিমি আধুনিকতাকে দেখার বৈয়াকরণ। প্রাচ্য এবং প্রতীচ্যকে বুঝতে এবং একে অপরের রাজনীতির খাসলত জানতে যা ছিল আয়না বিশেষ। পষ্ট করে যুক্তিযুক্ত তত্ত্ব ও তথ্যে দেখিয়েছেন প্রাচ্যের অস্তিত্ব নির্মাণের যাবতীয় প্রশ্ন। ১৯৮১ তে তিনি ‘কাভারিং ইসলাম’ এ উন্মোচন করেছেন পশ্চিমা দুনিয়ার স্বার্থসিদ্ধির অন্য এক রাজনীতি। যেখানে নৈতিকতার বালাই নেই। আছে কেবলই কপটতা ও দুরভিসন্ধি বাস্তবায়নের প্রোপাগাণ্ডা। এবং সেসব নির্মাণে মিডিয়াও যুক্ত হয় কীভাবে ও কোন রূপে। সাইদের বুদ্ধিজীবীতার ধর্মই হলো তিনি হাঁটেন না প্রচলিত পথে। ঝাঁকের কৈ হয়ে ঝাঁকে ভেসে যান না। ভেড়া হয়ে দলভারি করেন না ভেড়ার পালে যূথবদ্ধতায়।
২২ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
নূর হোসেনের দেশে আমাদের গণতান্ত্রিক মন
শহীদ নূর হোসেন। যার বুকে ও পিঠে লেখা ছিল, ‘স্বৈরাচার নীপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক।’ শামসুর রাহমান তাকে নিয়ে লিখেছিলেন অমর কবিতা, ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়।’ নূর হোসেন কেবল একটা নাম নয়। কেবল একটা পোস্টার নয়, বাঙালির গণতান্ত্রিক মন, মনন ও বোধের প্রতীক। নূর হোসেনই বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে গণতন্ত্রকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক বাংলাদেশ। নূর হোসেন হচ্ছে সেই বাংলাদেশের সকল মানুষের গণতান্ত্রিক আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক ও প্রতিভূ।
১৩ নভেম্বর ২০২২, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন