মতিঝিলে ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ প্রকল্প শুরু, মাঠে নামছে ২০ সিটি ইন্সপেক্টর

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

নাগরিকদের নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা, এডিস মশার বিস্তার রোধে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলার মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’ নামাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

এ লক্ষ্যে মতিঝিলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক ছয় মাস মেয়াদি একটি পাইলট প্রকল্প চালু করেছে ডিএসসিসি। প্রকল্পের আওতায় মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর।

ডিএসসিসির উদ্যোগে এবং ‘আছি বাংলাদেশের’ (আমেরিকান অ্যাফর্ডেবল কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভ) অর্থায়নে আজ বুধবার রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস এ কার্যক্রম চলবে।

এ উপলক্ষে নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মতিঝিলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পরিবেশ উন্নয়ন, বায়ুদূষণ কমানো, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ‘আঙিনা পরিষ্কার, শহর পরিষ্কার’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। এর জন্য নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শহরের প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকলে পুরো নগরই আরও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি ভবিষ্যতে পুরো নগরের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিটি ইন্সপেক্টরদের মূল দায়িত্ব হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়তা করা।’

‘আছি বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগ ও সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রোগব্যাধি প্রতিরোধে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নাগরিকরা সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধুলাবালি, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যাও অনেকাংশে কমে আসবে।

মো. আবদুস সালাম জানান, মতিঝিলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি আদর্শ ওয়ার্ডে পরিণত করা গেলে পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির সব ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় মতিঝিল এলাকাকে ১০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এসব এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর।

তারা বাড়ি, দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

এছাড়া নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলছেন কি না এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ ও জরিপ করা হবে। এর ভিত্তিতে দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন নাগরিকদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশের’ প্রতিনিধিরা, সিটি ইন্সপেক্টররা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।