চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদ: পরিবার থেকে দূরে, আত্মার বন্ধনে
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা চার দেয়ালের ভেতরেই ঈদ কাটাবেন। তাদের কেউ দীর্ঘমেয়াদি সাজা ভোগ করছেন, কেউ মৃত্যুদণ্ডের প্রহর গুনছেন, কেউবা বিচারাধীন মামলায় আটক। প্রতি বছরের মতো এবারও তারা প্রিয়জনদের থেকে দূরে থেকেই ঈদ উদযাপন করবেন।
এ ছাড়া, পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪৫ শিশু তাদের মায়ের সঙ্গে কারাগারের ভেতরেই ঈদ কাটাবে।
পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পরও বন্দিরা যাতে ঈদ কিছুটা আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য কারা কর্তৃপক্ষ বিশেষ খাবার ও কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
ঈদের দিন বন্দিদের জন্য পায়েস, সেমাই ও মিষ্টি পরিবেশন করা হবে। দুপুরের খাবারে থাকবে পোলাও, গরুর মাংস, মুরগি ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস। রাতের খাবারে থাকবে আলুর দম, মাংস ও মাছ।
সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বন্দিরা পরিবার থেকে দূরে থাকলেও যাতে অন্তত কিছুটা আনন্দের অনুভূতি নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
কারা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার বন্দি রয়েছেন। যদিও এর ধারণক্ষমতা মাত্র ১ হাজার ৮৫৩ জন। এবার ঈদ উপলক্ষে কোনো বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
কারা সূত্র জানায়, ঈদের সকালে বন্দিদের পায়েস বা সেমাইয়ের সঙ্গে মুড়ি দেওয়া হবে। সকাল ৮টার দিকে তারা কারাগারের ভেতরে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে যমুনা, কর্ণফুলী, পদ্মা, মেঘনা, সাঙ্গু ও হালদা ভবনের বন্দিরা নামাজে অংশ নেবেন এবং প্রতিটি ব্লকের সামনে আলাদা জামাতের ব্যবস্থা করা হবে।
জেল সুপার জানান, মায়েদের সঙ্গে কারাগারে ঈদ কাটানো শিশুদের নতুন পোশাক দেওয়া হবে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
তিনি বলেন, ঈদের পরদিন বন্দিরা তাদের পরিবারের রান্না করা খাবার খেতে পারবেন। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত তারা স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন।
এ ছাড়া, ঈদের দিন প্রতিটি বন্দিকে নির্ধারিত কারাগারের ফোনের মাধ্যমে পাঁচ মিনিট করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।