রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী
গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগ থেকে রাজনৈতিক দলগুলো পরিপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
গত কয়দিনের পত্রিকার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘পারি নাই বলেই আমাদের রাজনীতিকে আজও কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করছে।’
আজ সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এত জীবন্ত একটা পার্লামেন্টকে রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য গণতান্ত্রিক শক্তির যে রাজনৈতিক ঐক্য থাকা দরকার, তা যে আমরা এখনো সুসংহত করতে পারিনি তার প্রমাণ পার্লামেন্টকে রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত করার ব্যাপারে আমরা বিজয় অর্জনকারী দলগুলো এখনো ঐকমত্য চর্চা করতে পারছি না।’
‘শুধু তাই নয়, সামাজিক মাধ্যম যেহেতু পার্লামেন্ট ও রাজপথের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, সেখানেও যদি আমরা খুব সচেতনভাবে তদারক করি, নজর দিয়ে রাখি, তাহলে দেখতে পাব, সাধারণ মূল্যবোধ সংস্কৃতির যে মাত্রা, তা অতিক্রম করে একটা অশ্লীলতা চর্চার কাজ চলছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, এই তৎপরতাগুলো যখন কোনো আদর্শের ভিত্তিতে করা হয়, তখন তা আরও অনেক অশনি সংকেত আমাদের সামনে হাজির করে,’ যোগ করেন তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদদের স্মরণ করতে কেবলমাত্র আবেগ চর্চা করলে চলবে না, শহীদদেরকে স্মরণ করার জন্য কেবলমাত্র একটা আনুষ্ঠানিকতা চর্চা করলে চলবে না, শহীদদেরকে স্মরণ করার নামে আমরা যদি কেবলমাত্র আমাদের ব্যক্তিগত অথবা কোনো গোষ্ঠীগত উপস্থিতিকে হাজির করার অজুহাত তৈরি করি, আমাদের বিবেকের কাছে কিন্তু আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হবো।
জুলাই শহীদসহ এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সব শহীদের রক্ত এবং বিসর্জনকে এক জায়গায় রেখে আমাদেরকে পরিমাপে বসতে হবে—এত রক্তের বিনিময়ে আমরা কতটুকু অর্জন করেছি? তা যদি পরিমাপ করতে চাই, তাহলে আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, সংসদকে আমরা কতটা কার্যকরী করতে পেরেছি। রাজনৈতিক বিতর্ককে আমরা কতটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে বিধিবদ্ধ করতে পেরেছি এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আমরা কতটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে মহিমান্বিত করতে পেরেছি। এটাই আমাদের একমাত্র মানদণ্ড, যোগ করেন তিনি।
এতে জুলাই অভ্যুত্থানে যুক্ত সব রাজনৈতিক দলকে সম্মিলিত হওয়ার আহ্বান জানান স্বপন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির সামনে দেশ পরিচালনা, সংসদকে সক্রিয় করা, বিচার বিভাগকে স্বকীয় মর্যাদায় রূপান্তরিত করা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে বাস্তবসম্মতভাবে সুসংহত করা ও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দাঁড় করানো, বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সবার সহযোগিতা লাগবে।
‘আমরা চাই, পার্লামেন্টে ও রাজনীতিতে যাদের সহযোগিতা করার কথা, তারা সহযোগিতা করবেন,’ যোগ করেন তিনি।
জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়, আবারও বলেন তিনি।
‘এই সব কিছুই করতে হবে জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্টের মাধ্যমে। এর বাইরে এই লক্ষ্য অর্জন করার আর কোনো সাংবিধানিক, নিয়মতান্ত্রিক মঞ্চ আমাদের কাছে নাই। আমরা ধীরে ধীরে সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এই কাজটি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে করতে চাচ্ছি। এভাবেই আমরা দেশে একটা সুশাসনকে নিশ্চিত করতে চাই।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা তা করতে পারি, তাহলেই কেবলমাত্র শহীদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। শহীদের মর্যাদাকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো এবং এই কাজ করার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণতান্ত্রিক সব শক্তিকে আমরা ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করব।
‘কিন্তু যদি জনগণের কাছে প্রমাণ হয়, কারও বিভ্রান্তি মাত্রার বাইরে চলে যাচ্ছে; জনগণের কাছে যদি প্রমাণ হয়, কারও অশ্লীলতা মাত্রার বাইরে চলে যাচ্ছে; যদি জনগণের কাছে প্রমাণ হয়, কেউ কেউ বিভিন্ন আদর্শের নামে এখানে বুঝে অথবা না বুঝে অন্য কারও চক্রান্তকে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব নিচ্ছেন—সে ক্ষেত্রেও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমাদেরকে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।