শ্রীমঙ্গলে পুলিশের ব্যারিকেড পার হয়ে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের ব্যারিকেড পার হয়ে হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

এর আগে প্রায় আধা ঘণ্টা তাদের যাত্রা আটকে ছিল বলে অভিযোগ করেন তারা।

এনসিপি সূত্র জানায়, আজ বুধবার বিকেল ৪টার কিছু পর রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া ইমন জানান, শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের চারবার আটকানো হয়েছে। বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটের দিকে পুলিশের ব্যারিকেড পার হয়ে আমরা আবার হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছি। এখন কামাইছড়া পার হচ্ছি।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপি নেতাদের বহরে প্রায় ১০টি মাইক্রোবাস রয়েছে। বহরটি চা-কন্যা এলাকায় এলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। তখন গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপি নেতারা। পুলিশ এনসিপি নেতাদের ১৪৪ ধারার মধ্যে হবিগঞ্জে যেতে নিষেধ করেন। অপরদিকে এনসিপি নেতারা পুলিশকে বাধা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আমাদের কোনো কথাই শুনছেন না। বহরটি শ্রীমঙ্গল পার হয়ে গেছে।’

হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, সকাল থেকেই হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে নজরদারিতে আছেন তিনি। মাঠে পুলিশ, বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। 

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রাকালে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীসহ ১০ জন আহত হন বলে অভিযোগ করে দলটি।

এরপর আজ বিকেল ৩টায় হবিগঞ্জ পৌর শহরে সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে সেখানে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয় এনসিপি।