বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা বিএনপির নেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

আগামী কোনো নির্বাচনেই বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা বিএনপির নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আজ শনিবার সকালে জিয়া সরণি খাল পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার এবং বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমাদের নাই। আগামীতে যত নির্বাচন আসবে—সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, সব নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ হবে এবং এই সমস্ত নির্বাচনে আমাদের যারা প্রতিনিধিত্ব করবেন বা দাঁড়াবেন আমরা মানুষের ভোট নিয়ে নির্বাচিত হতে চাই। এই কারণে মানুষের উন্নয়নমূলক কাজ করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা আছে এবং আমাদেরও যথেষ্ট আগ্রহ আছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, আল্লাহর রহমতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে জিয়া সরণি খাল উদ্ধার, পুনঃখনন ও সৌন্দর্য বর্ধন করে পানির প্রবাহ সচল রাখা হবে।’

‘আমরা আপাতত পানি প্রবাহ সচল রাখার কাজ করছি,’ বলেন তিনি।

বর্ষা মৌসুমের পরে এই খালের দুইধার বাঁধাই করা হবে জানিয়ে পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়া সরণি খালটি বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। আগামী জুলাই থেকে এই প্রকল্প শুরু হবে।

এছাড়া ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামপুর খাল সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে, জানান তিনি।

শাহে আলম বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন, এই খালটির শুধুমাত্র নাম জিয়া সরণি হওয়ার কারণে বিগত সরকার ১৯ বছরে এই খালের (উন্নয়নে) কোনো প্রকল্প গ্রহণ করেনি। খাল মানুষের উপকারের জন্য। পানিপ্রবাহ ঠিক রাখার জন্য। শুধুমাত্র মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি খাল হওয়ার কারণে একটি অবৈধ সরকার সেই খালের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করবে না, সেই খাল পরিষ্কার রাখবে না, এলাকার মানুষকে কষ্টে রাখবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আগামীতে কার নামে কী—এসব দেখতে চাই না।’

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সারা দেশে জনপ্রতিনিধিরা সমস্ত রাস্তাঘাট, খাল পুনরুদ্ধার করবেন এবং আগামী ছয় মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী।

‘দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো সিএস পর্চা ও ম্যাপ অনুযায়ী প্রথমে দখলমুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে অবৈধ দখলদারের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি।

খাল কিংবা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সব সময় খাল পরিষ্কারই করতে থাকি, সরকারের প্রচুর টাকা অপচয় হবে। এই যে এখন পরিষ্কার হচ্ছে। আপনারা ময়লা-আবর্জনা আমাদের সিটি করপোরেশনের ড্রামগুলোতে ফেলার চেষ্টা করবেন।’

বিষয়টি তদারকির জন্য তিনি সচেতন নাগরিক কমিটির গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।