সড়ক নিরাপত্তায় বিশেষায়িত পুলিশ বিভাগ প্রয়োজন: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

সড়ক নিরাপত্তা ও মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় একটি বিশেষায়িত পুলিশ বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত কর্মকর্তাদের নিয়মিত সাধারণ পুলিশিংয়ের দায়িত্বে বদলি না করে মাঠ পর্যায়ে রাখা উচিত।

‘তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে এবং একপর্যায়ে সড়কগুলোকে কার্যকর রাখতে সক্ষম হতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

আজ সোমবার দুপুরে ঢাকার একটি হোটেলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে সড়ক নিরাপত্তা ও মহাসড়ক বিভাগগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নবিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রবিউল বলেন, কার্যকর মহাসড়ক পুলিশিংয়ের জন্য বিশেষায়িত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

‘কেউ আজ সাধারণ পুলিশে এবং আগামীকাল হাইওয়ে পুলিশে থাকলে কি এটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে? অবশ্যই পারে না।’

তিনি বলেন, এই ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একই কাঠামোর মধ্যে থেকে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ থাকা উচিত।

‘সড়ক নিরাপত্তায় কাজ করা প্রকৌশলী ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত,’ মত দেন তিনি।

চালকদের অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বড় উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে রবিউল বলেন, ‘চালকদের প্রশিক্ষণ, ফিটনেস পরীক্ষা, মাদক পরীক্ষা এবং অন্যান্য যাচাইয়ের জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তবে সেগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, সড়কে চলাচলের উপযোগী যানবাহন, দক্ষ চালক, গতি নিয়ন্ত্রণ, মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বাড়ানো সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘বেপরোয়া গাড়ি চালানো বা অবহেলার কারণে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন। আমাদের এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

তিনি জানান, সরকার ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ২০৩০ সালের সড়ক নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে।

প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও জোর দিয়ে তিনি বলেন, সড়কগুলো অতিরিক্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই মেরামত করা উচিত।

যানবাহনের নিরাপত্তার বিষয়ে রবিউল বলেন, সরকার বাসের সার্ভিস লাইফ ২০ বছর এবং ট্রাকের ২৫ বছর নির্ধারণ করে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। অযোগ্য যানবাহন বাতিল ও পুনর্ব্যবহারের জন্যও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, তবে সেগুলোর বাস্তবায়ন এখনো বাকি রয়েছে, যোগ করেন তিনি।

সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও তা যথেষ্ট ফল দিচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন রবিউল।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বেশ কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে, আর এডিবি কারিগরি সহায়তা ও অর্থায়ন দিচ্ছে। ‘আমরা ধারাবাহিকভাবে অর্থ ব্যয় করছি, কিন্তু আমরা আসলে কী অর্জন করছি, তা নিয়ে মানুষের প্রশ্ন রয়েছে।’

রবিউল বলেন, বাংলাদেশ সেমিনার ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে ভালো হলেও সেখান থেকে পাওয়া শিক্ষা ও সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনো দুর্বল।

তিনি আরও মনে করেন, ‘কর্তৃপক্ষের উচিত দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত ও বারবার ঘটতে থাকা দুর্ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করা এবং অনুমানের পরিবর্তে তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।’

ভবিষ্যতে অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এসব ফলাফলকে নির্দেশনা হিসেবে কাজে লাগানো উচিত, যাতে পরিকল্পনার পর্যায় থেকেই নিরাপত্তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যোগ করেন তিনি।