বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার

লংমার্চ করে গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না, সরকারকে সময় দিতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বিরোধীদলের কর্মসূচি নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, লংমার্চ করে গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না, সরকারকে সময় দিতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

লংমার্চ করে কি গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, লংমার্চ করে গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না।

সালাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদলের কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের বাইরে আর কী কী করা যায়। আজকে হাজার হাজার গাড়ি নিয়া যে পেট্রোল পোড়াবেন, এটাতে আমাদের খরচ হবে না? এটা কিনতে তো ডলার লাগে, নিজের টাকা দিয়ে কেনা যায় না।

দেশের মানুষের জন্য চিন্তা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিরোধীদল খালি বক্তৃতা দেয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য কোনো প্রোগ্রাম করেছে? দেখছেন আপনারা? দেখেন নাই। আবর্জনা মুক্ত করার জন্য কোনো কর্মসূচি দিয়েছে? দেয় নাই। খালি এই হয়ে গেল, এই হলো না, এখনই দরকার—এটা কি হাওয়া থেকে আসবে?’

সরকারকে সময় দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংকের টাকা লোপাট, শেষ হয়ে গেছিল। আগের সরকার ঋণ করে গেছে, সেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই সরকার বসেছে। এই ছয় মাসে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ শোধ করতে হয়েছে, যেটা এর আগে কেউ করে নাই।’

এ সময় তিনি ‘আবর্জনা রাস্তায় ফেলবো না, বুড়িগঙ্গাতেও ফেলবো না’—শপথ এবং বুড়িগঙ্গা দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ ও অবৈধ কারখানাগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানান।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার সেই অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মডেল। ড্রেন ও নালা-নর্দমায় প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য জমা দিলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সুরক্ষা—দুটোই নিশ্চিত হবে।’

এই সচেতনতামূলক উদ্যোগকে পুরো নগরীতে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সালাম জানান, শিগগির ডিএসসিসির উদ্যোগে গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সুবিধাজনক স্থানে পথশিশুদের শিক্ষার আলো ছড়াতে চেয়ার-টেবিল ও বইসহ 'বই পড়ার বিনিময়ে খাবার' কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ডিএসসিসি।

অস্থায়ী এই বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্জ্যের বিনিময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করেন।

প্রথমে বর্জ্য ওজন করে টোকেন দেওয়া হয়। এরপর সেই টোকেন জমা দিয়ে নিতে হয় পণ্য। এর মধ্যে ছয় কেজি বর্জ্যের বিনিময়ে একটি মুরগি, পাঁচ কেজির বিনিময়ে একটি মাছ, এক কেজিতে ছয় পিস ডিম, চার কেজিতে দুই কেজি আটা, পাঁচ কেজিতে এক লিটার তেল, দুই কেজিতে এক প্যাকেট টোস্ট বিস্কিট ও তিন কেজিতে এক কেজি চিনি দেওয়া হয়। এছাড়া আরও অনেক পণ্য নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।