রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে দেখছে সরকার: আযাদ

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার ‘সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি’ দিয়ে মূল্যায়ন করছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে না দেখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।

তার ভাষ্য, সরকারের একজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিরোধীদলের সংবিধান সংস্কার পরিষদে নেওয়া শপথ আর টেকে না।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা জানতে চাই—এই যুক্তি যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথ কীভাবে বৈধ থাকে? কারণ ২০২৬ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। সরকারের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে এটি ছিল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন উদ্যোগ।

‘নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা আমরা আগেই জানতাম। তবুও আমরা অংশ নিয়েছি জনগণের সামনে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং গণতন্ত্রের দাবি জোরালো করতে’, বলেন জামায়াতের এই নেতা।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিয়ে এর আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। 
অনুচ্ছেদটি অনুযায়ী, যে দল কোনো সংসদ সদস্যকে নির্বাচিত করেছে, সেই দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ১১ আগস্ট জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে।

এ নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না। বিষয়টি নিয়ে করা একটি রিট ১৮ আগস্ট হাইকোর্ট খারিজ করে দেন।

আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জনগণ নতুন করে উপলব্ধি করেছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই করতে সংবিধান সংস্কার কেন অপরিহার্য।

তিনি সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা না করে এর অন্তর্নিহিত গণতান্ত্রিক বার্তা উপলব্ধি করার আহ্বান জানান।

‘জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না’, বলেন তিনি।