ভারত থেকে এলো ২৪.২ টন কাঁচা মরিচ, আমদানি ব্যয় কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকা
দেশের বাজারে সরবরাহ সংকট দূর ও লাগামহীন দাম কমানোর লক্ষ্যে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রথম দুই চালানে ২৪ টন ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে সর্বশেষ ১৫ টনের চালানটি বন্দরে পৌঁছায়।
এর আগে গতকাল রাত ৯টার দিকে বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড দিয়ে ৯ টন ২০০ কেজি কাঁচা মরিচের চালানটি আসে।
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, কাস্টমস ও বন্দর-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে চালান দুটি ছাড় করা হয়েছে। কাঁচা মরিচ আমদানি করেছে শিমু এন্টারপ্রাইজ। আর কাস্টমস ছাড়পত্রের নথি দাখিল করেছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইনস ও রয়্যাল এন্টারপ্রাইজ।
আমদানিকারক শাহজাহান আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, শুল্ক ও অন্যান্য ব্যয়সহ প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে মোট খরচ পড়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। অল্প লাভে এসব মরিচ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হবে।
তিনি বলেন, আমদানি বাড়তে থাকলে দেশীয় বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ধীরে ধীরে কমে আসবে।
শাহজাহান আলী আরও বলেন, কাস্টমস-সংক্রান্ত জটিলতা ও অতিরিক্ত মূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদের লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় কয়েকটি রাজ্য, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর এ আমদানি শুরু হয়। প্রথম ধাপে ৬৯ জন আমদানিকারককে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে আমদানি কার্যক্রম শুরু হয় সোমবার।
প্রথম চালান পৌঁছানোর পরও মঙ্গলবার বেনাপোলের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ প্রায় ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানির পরিমাণ বাড়লে দাম কমে আসবে।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মুক্তা রানী ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ছিল ৩০০ মার্কিন ডলার। তবে শুল্ক নির্ধারণের জন্য বেনাপোল কাস্টমস হাউস এর মূল্য প্রতি টন ৫০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু শুল্কই প্রতি কেজিতে শূন্য দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬২ টাকার সমান।
আমদানিকারক মো. রয়েল বলেন, পরিবহন, কাস্টমস, বন্দর হ্যান্ডলিং এবং অন্যান্য ছাড়পত্র-সংক্রান্ত ব্যয়ের কারণে মোট আমদানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রকৃত আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, আমদানি করা কাঁচা মরিচ যাতে দ্রুত ছাড় করা যায়, সে জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় করে সব আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করেছে।
প্রসঙ্গত, দেশীয় বাজারে সরবরাহ সংকট দূর করা এবং কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার সম্প্রতি ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে।