ব্যয় সংকোচনের ২ উদ্যোগ থেকে সরে এলো সরকার
ব্যয় সংকোচনের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে দুটি বাস্তবায়নের নির্দেশের পরও সরে এসেছে সরকার।
এগুলো হলো—প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি খরচ ৫০ হাজার টাকার অর্ধেক করা এবং সরকারি কর্মচারীরা বিদেশে পড়তে গেলে 'ডেপুটেশনের' বদলে 'শিক্ষা ছুটি' নেওয়া।
গত ৯ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় এ দুই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সচিবদের চিঠি দিয়েছিল।
কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার এ দুই উদ্যোগ বাস্তবায়নে 'কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য' ৫ সচিবকে চিঠি দিয়েছে একই মন্ত্রণালয়।
এ সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব ও তদুর্ধ্ব মর্যাদার কর্মকর্তারা রাজস্ব খাত থেকে গাড়ি কেনার জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকার পাশাপাশি জ্বালানি খরচ ও গাড়ি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার করে টাকা পান। এই সুযোগ জুডিশিয়াল সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারাও পান।
অন্যদিকে, বর্তমানে কোনো কর্মকর্তা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গেলে পূর্ণ বেতন-ভাতাসহ 'ডেপুটেশন' সুবিধা নিতে পারেন। অর্থাৎ, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিদেশে পড়াশোনার সময় চাকরিরত অবস্থায় আছে বলে গণ্য হন।
সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য সরকারের ব্যায় সংকোচন নীতি অংশ হিসেবে এ দুই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য গত সপ্তাহে অর্থ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের পাশাপাশি আইন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থ বিভাগের চিঠিতে এ বিষয়ে প্রধামন্ত্রীর নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উচ্চপর্যায় থেকে মৌখিক নির্দেশনা পাওয়ার পর সেই বৈঠক আর অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানা গেছে।
সচিবালয়ের অন্তত দুটি সূত্রে জানা গেছে, এই দুই চিঠির বিষয় জানাজানি হওয়ার পর সচিবালয়ের প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীনভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান। এরপর বিষয়টি সরকারপ্রধানের দৃষ্টিতে নেওয়া হলে সিদ্ধান্ত বাতিলের সম্মতি আসে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অন্তর্বতী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ড্রাইভার, জ্বালানি ও মেরামতের খরচ নির্ণয় করে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারত। এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটি কমিটির মাধ্যমে যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা উচিত ছিল।'
'আমার মনে হয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না,' যোগ করেন তিনি।