বিপৎসীমার কাছে সাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি, বন্যা-পাহাড়ধসের শঙ্কায় বান্দরবানে ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত
বান্দরবানে টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে প্রধান দুই নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বন্যা ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় জেলার ৭ উপজেলায় ২২০ জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সানিউল ফেরদৌস দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের উপপরিচালক সনাতন কুমার মণ্ডল ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘টানা ৩ দিন ধরে জেলায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।’
এ অবস্থায় জেলার প্রধান দুই নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি ১০ দশমিক ৩৮ মিটার এবং সাঙ্গু নদীর পানি ১২ দশমিক ৬১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা থেকে প্রায় দেড় মিটার ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা থেকে প্রায় দুই মিটার নিচে রয়েছে।’
রাতে বৃষ্টি হলে দুই নদীর পানিই বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ বিকেল পর্যন্ত শহরের নৌঘাট, পুরাতন ও নতুন সেতু এলাকা, স্লুইসগেট, ওয়াপদা ব্রিজ, বাসস্টেশন, মারমা বাজার, উজানীপাড়া সিঁড়িঘাট, কালাঘাটা ও বালাঘাটা এলাকায় নদীর পানি বাড়িঘরের আঙিনা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
জেলা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রাবাসের সামনের সড়ক ও ব্রিগেড সদর দপ্তরের সামনে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়ন এবং লামা ও আলীকদম উপজেলার কয়েকটি এলাকায় প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।’
এতে জেলার সঙ্গে ওই তিন উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সানিউল ফেরদৌস আরও বলেন, ‘নদীতীর ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় করে সাত উপজেলায় ২২০টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছি।’
এখনো কাউকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হয়নি, তবে নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দুর্গম ও নদীতীরের নিচু এলাকায় থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’