যশোরে ‘চীনা জামাই’ দেখতে কনের বাড়িতে ভিড়
চীনের বেইজিং থেকে এসে যশোরের এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনা এক যুবক।
বরের নাম লি বিং (৩২)। আর কনের নাম তন্দ্রা খাতুন (২৫)। যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামে তার বাড়ি। এখন ‘চীনা জামাই’ দেখতে কনের বাড়িতে ভিড় জমান স্থানীয় লোকজন।
যশোর সদরের একটি তথ্যকেন্দ্রে কাজ করেন তন্দ্রা খাতুন। তিনি জানান, প্রায় আট মাস আগে ভাষা শেখার অ্যাপ ‘হ্যালোটক’–এর মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। উইচ্যাটের মাধ্যমে তাদের বন্ধুত্ব প্রেমে রূপ নেয়। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
তন্দ্রা বলেন, ‘সে চীন থেকে এত দূর ছুটে এসেছে। গত ১৮ জুন সে বাংলাদেশে আসে। পরদিন সন্ধ্যায় যশোর জজকোর্টে আমাদের বিয়ে হয়।’
তন্দ্রা বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে সে আমাদের বাড়িতেই আছে। আমরা ভালো আছি। আমার ভিসার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই ওর সঙ্গে আমি চীনে পাড়ি জমাব।’
বেইজিংয়ের বাসিন্দা লি বিং জানান, তিনি স্মার্ট লক তৈরির একটি কোম্পানিতে কাজ করেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি মেজ।
বাংলাদেশ সম্পর্কে অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী চমৎকার একজন মানুষ। বাংলাদেশের বাতাস খুব আরামদায়ক। আমার স্ত্রীর পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়স্বজন খুবই আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। এখানে আমার কোনো অসুবিধা হয়নি। বাংলাদেশ আমার খুব ভালো লেগেছে।’
তন্দ্রার মা শিউলি বেগম বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই তাদের পরিচয় হয়েছিল। মেয়েকে বিয়ে করতে লি বিং চীন থেকে এসেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আনন্দ নিয়েই আমাদের মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি।’
প্রতিবেশী কুলসুম বেগম বলেন, এ এলাকায় এ ধরনের বিয়ে এই প্রথম।
তিনি বলেন, ‘চীন থেকে এসে কেউ স্থানীয় কোনো মেয়েকে বিয়ে করেছে, এমনটা আমরা আগে কখনো শুনিনি। এটি একেবারেই নতুন একটা বিষয়। চীনা বরকে দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকেও মানুষ আসছে। সবাই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছে।’