‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ অডিও ভাইরালের পর ওসিকে প্রত্যাহার

নিজস্ব সংবাদদাতা, নেত্রকোণা

নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের বক্তব্যের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। এরই মধ্যে ওই ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আজ রোববার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তরিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলে-মিশে থাকব। ধরেন ২ হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন ১ হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ করে দিলেন ১ হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পার করে দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’

ওই রেকর্ডে ওসিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরিটা এক ধরনের ব্যবসা। সবাই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না, তবে আমরা একজন আরেকজনকে সুরক্ষায় রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খেতে পারবেন না। আমি আপনাদের ঠকাব না। আমার কনস্টেবলরা যেন তাদের প্রাপ্য পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না।’

এছাড়া অডিওতে মামলা সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন, থানার অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়।

তবে এসব বক্তব্য নিজের নয় বলে দাবি করেছেন ওসি মো. আবুল হাশেম।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘এটি আমার বক্তব্য নয়। কীভাবে এমন বক্তব্য প্রচার হয়েছে, সেটিও আমি জানি না।’

এসপি তরিকুল ইসলাম বলেন, অডিওটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে ওসি আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।