৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

পবিত্র ঈদুল আজহায় চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির পশুর বর্জ্য ছয় ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ জন্য ৩ হাজার ১০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ১৪০টি বর্জ্যবাহী ট্রাক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে এবং রাত ৮টার মধ্যে তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চসিক জানিয়েছে, পরিবেশ দূষণ ও জনভোগান্তি কমাতে এবার অবিক্রিত বা নষ্ট কাঁচা চামড়া সংগ্রহে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে আলাদা ট্রাকের মাধ্যমে এসব চামড়া সংগ্রহ করা হবে।

গত বছর প্রধান সড়কের বর্জ্য বিকেল ৪টার মধ্যে এবং অলিগলির বর্জ্য সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপসারণ করে প্রশংসা পেয়েছিল চসিক। এবার পুরো কার্যক্রম ছয় ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, দুপুর ২টা থেকে ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। ছয় ঘণ্টার মধ্যে পুরো নগরী পরিষ্কার করার লক্ষ্য নিয়েছি আমরা।

তিনি জানান, ঈদের দিন দুপুর ২টায় কাজীর দেউড়ির সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) থেকে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি শুরু করবেন তিনি নিজেই।

চসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, জরুরি সেবা সচল রাখতে সব পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে ১০০ থেকে ১৫০ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। টেন্ডারের মাধ্যমে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের সুযোগ না থাকায় নিজস্ব কর্মীদের ওপরই নির্ভর করছে চসিক।

নগরবাসীকে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করার আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র। একই সঙ্গে চসিকের সরবরাহ করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য ভরে নির্ধারিত সংগ্রহস্থলে রাখার অনুরোধও জানান তিনি।

রোগজীবাণু ছড়ানো ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ ও ছিটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মেয়র।

কাঁচা চামড়া ব্যবস্থাপনাকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে শাহাদাত হোসেন বলেন, চামড়া যেন যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা না হয়, সে জন্য চামড়া ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উৎসাহ দিতে সেরা পারফরম্যান্স করা তিনটি ওয়ার্ডকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছে চসিক। দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হবে বলে জানিয়েছেন চসিক কর্মকর্তারা।