ঈদের আগে এটিএম বুথে টাকার সংকট, গ্রাহকদের ভোগান্তি

মো. মেহেদী হাসান
মো. মেহেদী হাসান

ঈদের ছুটিতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতে নগদ টাকার সংকট দেখা গেছে। কোনো কোনো বুথ সম্পূর্ণ বন্ধ, আবার কোথাও কোথাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে টাকা তোলার সীমা। উৎসবের ঠিক আগ মুহূর্তে টাকা তুলতে গিয়ে এমন ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ গ্রাহকরা।

গতকাল রোববার ও আজ সোমবার ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ করে দুর্বল ও সমস্যায় জর্জরিত ব্যাংকগুলোর এটিএম সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, আর্থিকভাবে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা কিছু ব্যাংকও টাকা তোলার ক্ষেত্রে সীমা (উইথড্রয়াল লিমিট) আরোপ করেছে।

বাসাবোর বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কার্ড দিয়ে স্থানীয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের বুথ থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর আরও কয়েকটি বুথ ঘুরেও টাকা না পেয়ে শেষমেশ একটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা তোলেন। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ব্যাংকটি তাদের বেশিরভাগ এটিএম বুথ বন্ধ করে দেওয়ায় এখন ব্যাংকটির বুথ পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ দ্য ডেইলি স্টারকে লিখিতভাবে জানিয়েছে, শহরের কিছু কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তাদের এটিএম বুথগুলো চালু রয়েছে। ঈদের ছুটিতে তাদের নিজস্ব গ্রাহকদের চাহিদামতো পর্যাপ্ত টাকা বুথগুলোতে রাখা হবে। তবে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকরা এনপিএসবি সুবিধা ব্যবহার করে টাকা তুলতে পারলেও সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া নিয়ম বা সীমা প্রযোজ্য হবে।

একই ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন শান্তিনগরের বাসিন্দা রুকাইয়া ইসলাম। গত রোববার বেশ কয়েকটি বুথ ঘুরে টাকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ব্যাংকের শাখা থেকে তাকে টাকা তুলতে হয়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, কমার্স ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ন্যাশনাল ব্যাংকের বুথগুলো থেকে অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা তুলতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন তারা।

আর্থিক সংকটের কারণে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংক—সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের শাখা ও বুথ পর্যায়ের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্বে) মো. আলতাফ হুসাইন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, অন্য ব্যাংকের কার্ডধারীরা আমাদের এটিএম বুথগুলো বেশি ব্যবহার করায় আমরা এই মুহূর্তে আমাদের নিজস্ব গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছি। তবে এর পরও পবিত্র ঈদুল আজহার আগে নিজেদের গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতেই ব্যাংকটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারা চাহিদামতো নগদ টাকা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, গতকাল আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ২৮০ কোটি টাকা চেয়েছিলাম, কিন্তু পেয়েছি মাত্র ১২০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান জানান, তাদের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ টাকা রয়েছে এবং সব ব্যাংকের গ্রাহকরাই টাকা তুলতে পারছেন। তবে অন্য ব্যাংকের কার্ডধারীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ তিনবার লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২১ মে বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনায় ঈদুল আজহার ছুটিতে সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের ডিজিটাল লেনদেন ও এটিএম সেবা সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।

নগদ টাকা তোলার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, যেসব ব্যাংক ঠিকমতো এটিএম সেবা দিতে পারছে না বা নগদ টাকার জোগান নিশ্চিত করতে পারছে না, তাদের এটিএম বুথ বন্ধ করে দেওয়া উচিত।