‘প্রেমঘটিত বিরোধে সৌদি প্রবাসীকে হত্যা’, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার
সৌদি প্রবাসী এক বাংলাদেশিকে হত্যার পর মরদেহ ৮ টুকরা করে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় এক নারী ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, প্রেমঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন—হেলেনা বেগম (৪০) ও তার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে। গতকাল রোববার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩।
এর আগে দুপুরে ওই এলাকার একটি বাড়ির বেজমেন্ট থেকে মাথাবিহীন ৭ টুকরো খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ
আজ সোমবার বিকেলে ঢাকায় র্যাব-৩ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩ এর উপপরিচালক সাইদুর রহমান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নিহত মোকাররম মিয়া (৩৭) সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। গত ১৪ মে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ ৮ টুকরা করে ফেলে দেওয়া হয় এলাকার বিভিন্ন স্থানে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি বলেন, তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা নামে এক নারীর সঙ্গে মোকাররমের সম্পর্ক ছিল। তাসলিমার স্বামীও সৌদি আরবে থাকেন।
র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবে থাকার সময় মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ ছিল। তাসলিমাকে ৫ লাখ টাকার বেশি মোকাররম পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১৩ মে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাংলাদেশে ফেরেন মোকাররম। পরে তাসলিমার সঙ্গে দেখা করতে তিনি মান্ডায় যান ও তাসলিমার বন্ধু হেলেনা আক্তারের ভাড়া বাসায় ওঠেন।
সাইদুর রহমান বলেন, ওই বাসায় মোকাররম, তাসলিমা, হেলেনা ও তার ২ মেয়ে একসঙ্গে ছিল।
তিনি আরও বলেন, তসলিমা বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় মোকাররম পাঠানো টাকা ফেরত চান এবং তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর তাসলিমা ও হেলেনা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
র্যাব জানায়, ১৪ মে সকালে মোকাররমের পানির সঙ্গে তারা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে হেলেনা বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। তবে মোকাররম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।
একপর্যায়ে হেলেনা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করেন। আর হেলেনার মেয়ে হাতুড়ি দিয়ে মোকাররমের মাথায় আঘাত করে। তাসলিমাও হামলায় অংশ নেন। পরে তারা নিশ্চিত হন মোকাররম মারা গেছেন।
তিনি আরও বলেন, এরপর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে ৮ টুকরা করা হয়। খণ্ডিত অংশগুলো প্লাস্টিকের ব্যাগে ঢুকিয়ে তারা ভবনের ময়লার স্তূপের পাশসহ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া দেন। পরে হেলেনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মোকাররমের মাথা উদ্ধার করে।
র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ১৫ মে তারা ভবনের ছাদে একটি পার্টির আয়োজন করেন। পরদিন তাসলিমা তার ছেলেকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
‘গতকাল দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠায়। পরে আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।’
র্যাব জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। অভিযুক্ত তাসলিমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।