নদী ভাঙনে হুমকির মুখে অষ্টগ্রামের ‘অলওয়েদার’ সড়ক

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত অষ্টগ্রামের ‘অলওয়েদার’ সড়কটি নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। উপজেলার বাঙ্গালপাড়া–নোয়াগাঁও সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ ইতোমধ্যেই মেঘনার গ্রাসে বিলীন হওয়ার উপক্রম। 

ভাঙনের ফলে সড়ক সংলগ্ন কৃষি জমি ও বিদ্যুতের খুঁটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে অন্ধকারে রয়েছে নোয়াগাঁও ও উসমানপুর গ্রাম।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: স্টার

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনের শুরুতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সময়মতো পদক্ষেপ নিতে চরম অবহেলা করা হয়েছে। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো এখন অস্তিত্ব সংকটে।

এদিকে পরিস্থিতির দায় নিতে নারাজ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। উল্টো তারা একে অপরকে দোষারোপ করে দায় এড়াতে চাইছে।

জানা গেছে, সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি সাত বছর আগে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছিল এলজিইডি। বর্তমানে সড়কটির সংস্কার কাজে আরও ১৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। কিন্তু মেরামতের মধ্যেই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: স্টার

বাঙ্গালপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সময়মতো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলে এত সমস্যা হতো না। 

বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রুস্তম বলেন, সড়কের শেষ প্রান্তে মেঘনা নদীর ওপর ১৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বৃহৎ সেতু নির্মাণাধীন রয়েছে। সেতুটি চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটবে। কিন্তু সংযোগ সড়কটিই যদি নদীগর্ভে চলে যায়, তবে এই বিপুল বিনিয়োগ কোনো কাজেই আসবে না।

ফারুক হোসেন নামে নোয়াগাঁওয়ের বাসিন্দা বলেন, বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য তাদের দূরবর্তী আত্মীয়ের বাড়িতে যেতে হচ্ছে। রাতে মোমবাতি ও কেরোসিনের বাতি ব্যবহার করতে হচ্ছে। সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মুমূর্ষু রোগীদের সময়মতো হাসপাতালেও নেওয়া যাচ্ছে না। 

স্থানীয়দের মতে, মেঘনা নদীর মুখ ড্রেজিং করে কেটে দিলে সড়ক ও আশপাশের গ্রাম রক্ষা করা সম্ভব। একই সঙ্গে তারা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়ে এলজিইডির অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক দাবি করেন, ভাঙন শুরুর পরপরই পানি পাউবোকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। তারা সময়মতো জিও ব্যাগ ফেলে নদী শাসন করলে ক্ষয়ক্ষতি এতোটা হতো না।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে কিশোরগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজাদ হোসেন বলেন, শুরুতে আমাদের কাছে কোনো লিখিত বা মৌখিক তথ্য ছিল না। আগে জানানো হলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হতো। বর্তমানে ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে, আমরা জরুরি ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।