‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাসস
বাসস

‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেন তিনি।

আজ টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলসহ ১০ জেলার ১১ উপজেলার নির্বাচিত কৃষকদের কাছে মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা চলে যায়। টাঙ্গাইলে এক হাজার ৪৫৩ জন কৃষক-কৃষাণীর এই অর্থ পাওয়ার কথা রয়েছে।

কৃষক কার্ড উদ্বোধনের পর কৃষক সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে বেলা ১১টা ২০মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে সরাসরি মঞ্চে উঠে কৃষক-কৃষাণীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

পরে পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম। কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কৃষক-কৃষাণীসহ কয়েক হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক সমবেত হন। পুরো স্টেডিয়ামের মাঠে এবং মঞ্চের সামনে ছাড়াও গ্যালারিতেও লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি ও কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ উপস্থিত ছিলেন।

তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সব কৃষককে এ ‘কৃষক কার্ড’ দিচ্ছে সরকার। পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে দেওয়া হবে এই কার্ড। এর মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কার্ডধারী কৃষকেরা।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কৃষক কার্ড বিতরণ তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এগুলো হলো, প্রাকপাইলট (পরীক্ষামূলক), পাইলট এবং দেশব্যাপী কার্যক্রম।

প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক; পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক; কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক; কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক; টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক; রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপচা ব্লক; মৌলভিবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক; পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

প্রাক-পাইলট পর্যায়ে কার্ডের জন্য ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষীও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

গতক ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক দুই হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি কৃষক এক হাজার ৩০৩ এবং বড় কৃষক ৯১ জন। 

এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকাও নগদ দেওয়া হবে। ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১।

কার্ড পাওয়া কৃষকেরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হল- ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ; ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা; সহজ শর্তে কৃষিঋণ; স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি; সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা; মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য; কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ; ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ; কৃষি বিমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন কৃষকেরা।

কৃষিমন্ত্রী জানান, কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে সরবরাহ করা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।