‘বোরকা পরা ২ জন আমাকে এলোপাতাড়ি কোপায়’

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

‘রোববার রাত ১০টার দিকে বাসার সামনে চায়ের দোকানে বসেছিলাম। তখন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তিনজন নামেন। তাদের মধ্যে দুজন বোরকা ও একজন পাঞ্জাবি পরা ছিলেন। নামার সঙ্গে সঙ্গে বোরকা পরা দুইজন চাপাতি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে আমার বাম হাতের কনুই প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হামলার পর তারা দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়।’

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) থেকে কথাগুলো বলছিলেন ইব্রাহিম খলিল শুভ (২৬)।

গতকাল রাতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় একটি চায়ের দোকানে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ইব্রাহিম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় পঙ্গু হাসপাতালে।

ইব্রাহিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর শাখার সাবেক সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

হাসপাতাল থেকে ইব্রাহিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, হামলা করার সময় তিনটি মোটরসাইকেলে তিন থেকে পাঁচজন হামলাকারীদের পাহারা দেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে আমার বিরোধ ছিল। সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারাগার থেকে তিনি একাধিকবার মোবাইল ফোনে আমাকে হুমকি দেন।

ছয় মাস আগেও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

ইব্রাহিম আরও বলেন, আমার ধারণা, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই আমার ‍ওপর হামলা করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইব্রাহিমের শয্যার পাশে ছিলেন তার মা রানু বেগম।

তিনি বলেন, ‘ইব্রাহিম আমাদের একমাত্র সন্তান। আমার স্বামী ড্রাইভার। আশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করে ইব্রাহিম সংসারের হাল ধরবে। এখন হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।’

রানু বেগম আরও বলেন, ‘আমি দ্রুত ইব্রাহিমের সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গতকাল রাতে ইব্রাহিমের বাম হাতে অপারেশন করা হয়েছে। তার বাম হাতে আরও একটি অপারেশন করতে হবে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবাহ উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, হামলার ঘটনায় এখনো মামলা করা হয়নি। আমরা তদন্ত করছি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইব্রাহিম জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় ছিলেন। তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।