লালমনিরহাটে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ সাবেক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে দোকানে ঢুকে এক ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সাবেক যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক লেবু মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমেধ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কলেজ মোড় এলাকার 'তানভীর অটো ভলকানাইজিং পার্টস' দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যবসায়ী আমিনুর রহমানকে স্থানীয়রা প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তার পরিবার পাটগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনার আগে লেবু মিয়ার এক কর্মচারী ওই দোকানে বাকিতে একটি গাড়ি মেরামত করান। পরে পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে দোকান মালিক আমিনুর রহমানের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে লেবু মিয়া কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে দোকানে গিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ।
তাদের দাবি, দোকানে ঢোকার পর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমিনুর রহমানের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে দোকানের ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে দোকানে প্রবেশ করে এক ব্যক্তির ওপর হামলা চালাতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করছে পুলিশ।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লেবু মিয়া। তিনি বলেন, আমি পাওনা টাকা পরিশোধ করতে দোকানে গিয়েছিলাম। সেখানে উল্টো আমার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। সামান্য একটি ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বড় করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা যুবদলের সভাপতি আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, লেবু মিয়া বর্তমানে যুবদলের কোনো পদে নেই এবং দলের কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সম্পৃক্ত নন। তিনি যদি দলের পরিচয় ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।