অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর নামে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ চক্রের আরও ২ সদস্য গ্রেপ্তার
অস্ট্রেলিয়ায় বেশি বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেপ্তার দুজন—নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মো. খাইরুল ইসলাম (২৪) ও মো. জাবেদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের মধ্যে খাইরুলকে চক্রটির অন্যতম মূল সমন্বয়কারী ও জাবেদুলকে বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটর সেলস অফিসার (ডিএসও) হিসেবে শনাক্ত করেছে পিবিআই।
এর আগে একই মামলায় গত ১ মে চক্রটির ‘মূলহোতা’ স্বপন কুমার রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি দেওয়ার ভুয়া আশ্বাস দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার এক বাসিন্দার কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারকরা অস্ট্রেলিয়ার ফোন নম্বর ব্যবহার করে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করত এবং বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে ভুক্তভোগীকে প্রলুব্ধ করত।
একপর্যায়ে প্রতারকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে ভুক্তভোগী সরাইল থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
মামলার তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘অভিযুক্তরা সুপরিকল্পিতভাবে বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে টাকা নেয়। বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর তারা সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।’
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও ও সাজানো সাফল্যের গল্প ছড়িয়ে প্রবাসী ও বিদেশগামী চাকরিপ্রত্যাশীদের টার্গেট করত। গ্রেপ্তার খাইরুল ইসলামকে ‘আরিফ মন্ডল’ নামে ভুয়া পরিচয়ে ভিডিওতে হাজির করা হয়, যেখানে তাকে সৌদি আরব থেকে অল্প খরচে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সফল হওয়ার গল্প বলতে দেখা যায়। এসব ভিডিও ফেসবুকে বুস্ট করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হতো।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার জাবেদুল ইসলাম নিজের বিকাশ ডিএসও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অর্থ নগদায়ন এবং লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনের গতিপথ গোপন করতে সহায়তা করতেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। এ কাজে তিনি কমিশনও নিতেন।
এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া স্বপন কুমার রায় (৪৮) নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ‘উৎসব ফার্মেসি’ নামের একটি দোকানের স্বত্বাধিকারী। তদন্তে উঠে আসে, তিনি পরিচিত কয়েকজন ব্যবসায়ী ও শিক্ষকের নামে তিনটি বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে সংশ্লিষ্ট সিম নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রতারণার অর্থ গ্রহণ করতেন।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব অ্যাকাউন্টে অন্তত ২৯ লাখ ৩২ হাজার ১৪১ টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে তিনি ও তার সহযোগীরা ওই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বপন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের দাবি, চক্রটি গত চার মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
