৫ লাখ টাকার চুক্তিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন দেয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী: পুলিশ
রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে পাঁচ লাখ টাকার ‘চুক্তিতে’ আগুন দেন এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এ ঘটনায় ওই কর্মী ছাড়াও স্টোর ইনচার্জ ও স্টোরকিপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আগুনের ঘটনায় ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ১৪০টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬২টি ও সন্ধান মেলেনি ৮৩টি ল্যাপটপের।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার।
গ্রেপ্তাররা হলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাস্টাররোলভুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. আসমাউল ইসলাম (৩০), স্টোর ইনচার্জ মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস (৫৫) ও মাস্টাররোলভুক্ত স্টোরকিপার মো. হুমায়ুন কবির খান (৫৯)।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে মিরপুর মডেল থানার আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোররুমে আগুন দেয় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা।
আগুন দেওয়া স্টোররুমটিতে মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য ৭৩৫টি ল্যাপটপ সংরক্ষণ করে রেখেছিল শিক্ষা অধিদপ্তর।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ৪৫০টি ল্যাপটপ ভালো অবস্থায়, ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, ২৯টি বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ১৪০টি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়।
এছাড়া ৮৩টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি। ল্যাপটপের ব্যাগসহ কিছু আনুষঙ্গিক সরঞ্জামও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, ‘সরকারি ভবনের স্টোররুমে রাখা ল্যাপটপ ও সরকারি মালামালের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় দুই-তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
‘ঘটনার পর অধিদপ্তরের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। পরে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে,’ বলেন ডিসি।
পুলিশ জানায়, আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর-২ এলাকা থেকে আসমাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজে স্টোররুমে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
ডিসি মোস্তাক আরও বলেন, ‘তাকে আর্থিক প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। এর মধ্যে তিনি নগদ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন।’
তবে কার সঙ্গে তার এই চুক্তি হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি।
পুলিশের ভাষ্য, ওই ৮০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি বিভিন্ন জিনিস কিনেছেন। সেসব তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধারে কাজ চলছে।
আসমাউলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়ে স্টোর ইনচার্জ জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও স্টোরকিপার হুমায়ুন কবির খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিসি বলেন, ‘কেন এই সময় ল্যাপটপগুলোতে আগুন দেওয়া হলো, পরিকল্পনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, মূল উদ্দেশ্য কী, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।