শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষক শেখ নুরুল আমীন (রতন) উপজেলার বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
মঙ্গলবার দুপুরে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের উপসী এলাকায় ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান সিকদার ৮–১০ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ওই শিক্ষকের ওপর হামলা চালান বলে জানা যায়। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাপ্তরিক কাজ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিলেন শেখ নুরুল আমীন। উপসী তিন দোকান এলাকায় পৌঁছালে মিজানুরের নেতৃত্বে কয়েকজন তার অটোরিকশার গতিরোধ করেন। এরপর তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। হামলায় তার হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অর্থোপেডিক চিকিৎসক তাকে দেখেন। পরীক্ষায় তার ডান হাতের কবজির কাছের একটি হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত শিক্ষক শেখ নুরুল আমীন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। প্রথমে মিজানুর আমাকে আঘাত করেন, পরে অন্যরা লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। আমি আইনি পদক্ষেপ নেব।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা মিজানুর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। ঘটনার সময় আমি একটি টেন্ডার–সংক্রান্ত কাজে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ছিলাম। কারা হামলা করেছে, তা আমি জানি না।’
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়, তবে ভুক্তভোগী তখন সেখানে ছিলেন না। এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন মফিজুর রহমান জানান, আহত শিক্ষকের হাত ও পায়ের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার ডান হাতের কবজির কাছে একটি হাড় ভেঙে গেছে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।