দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক গৌরবের ইতিহাস উন্মোচন

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ ও প্রাচীন শিলালিপি নিয়ে প্রথমা প্রকাশন দুটি আকরগ্রন্থ প্রকাশ করেছে। বই দুটো হলো—স্বনামখ্যাত শৌখিন পুরাতাত্ত্বিক আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ। অন্যটি বঙ্গীয় শিল্পকলাচর্চার আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের অতিথি অধ্যাপক মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিকের শিলালিপি: বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্নলেখমালা।  

শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রগতি ভবনে প্রথম আলোর সভাকক্ষে বই দুটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ইতিহাসবিদেরা তুলে ধরেন দেশের গৌরবময় ইতিহাস ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

শিলালিপি বইটি নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ওয়াকিল আহমেদ বলেন, বাংলার মধ্যযুগের মুসলিম শাসকদের ইতিহাস মূলত আরবি-ফারসি ভাষায় লিখিত। নির্ভুলভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে এই শিলালিপিগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ইউসুফ সিদ্দিক বাংলা ভাষায় শিলালিপিগুলো অনুবাদ করে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে তার অর্থ পৌঁছে দিয়েছেন। এসব শিলালিপিতে ঐতিহাসিক তথ্য–উপাত্তের পাশাপাশি অনেক গৌরবময় ঐতিহ্যের বিষয়ও রয়েছে। লেখক দীর্ঘদিন থেকে এসব শিলালিপি নিয়ে নিবিড় অনুসন্ধান ও পরিশ্রমসাধ্য গবেষণা করছেন। অন্ধকার থেকে আলোর জগতে নিয়ে এসেছেন।

শিলালিপি বইটির সম্পাদক ও তরুণ গবেষক তাহমিদাল জামি বলেন, আমাদের দেশের ইতিহাস চর্চায় ঔপনিবেশিক আমলের আগের সময়ের ইতিহাসের অনেক ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি রয়েছে। আরবি-ফারসি শিলালিপি নিয়ে এই বইটি ইতিহাসের প্রাথমিক সূত্রগুলোর সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে। লেখক কেবল বর্ণনামূলক অনুবাদ করেননি। তার কাজ বিশ্লেষণমূলক। বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের শিলালিপির সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনাও এসেছে প্রসঙ্গক্রমে। ফলে তার কাজটি হয়েছে বহুমাত্রিক।

লেখক মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিক বলেন, অনেক শিলালিপিতেই দেখা যাচ্ছে তখন সমাজে ছিল সহাবস্থান ও সমন্বয়মুখিতা। বিভিন্ন ধর্ম ও জনজাতির মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে একত্রে বসবাস করতেন। এই শিলালিপিগুলো এই বিষয়টি আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। সে কারণে ইতিহাসের এই অনন্য উপাদানগুলো এখনো আমাদের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক।

বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ বইটি আগে অন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। এবার প্রথমা থেকে প্রকাশিত হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজের সম্পাদনায়। 

তিনি জানান, তারা যখন ইতিহাসের ছাত্র, তখন দেশের প্রত্নসম্পদ নিয়ে জানার মতো তথ্য ছিল কম, বইও ছিল না। ফলে জানার সুযোগও বিশেষ ছিল না। সেই সময় আ ক ম যাকারিয়ার এই বইটি যেন একটা আলোর ঝলকের মতো এসেছিল তাদের কাছে। বইটি ইতিহাসের ছাত্র-শিক্ষকদের হাতে হাতে পৌঁছে যায়। বইটি তখন তিনি ছাত্র হিসেবে পড়েছেন পরীক্ষায় পাসের জন্য। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক হিসেবে বইটি ছাত্রদের পড়িয়েছেন। এখনো দেশের কোনো স্থানের প্রত্নসম্পদের সম্পর্কে খোঁজ নিতে গেলে বা নতুন কোনো প্রত্নস্থানের সন্ধান করতে গেলে এই বইয়ের সাহায্য নিতে হয়। বইটি বাংলাদেশের প্রত্ন গবেষণার ও পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশকের মতো।

প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মাসউদ ইমরান ও বই দুটির প্রকাশনা সহযোগী ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চিফ কমিউনিকেশন অফিসার জীশান কিংশুক হক প্রমুখ।