জাককানইবিতে নজরুল জয়ন্তী উদযাপন, চেতনা ধারণের আহ্বান

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কবিকে স্মরণ করা হয়েছে।

রোববার দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। আজ সোমবার ছিল এর দ্বিতীয় ও শেষ দিন।

এদিন বক্তারা নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, ‘নজরুলবর্ষে শুধু নজরুল-বন্দনা করলেই হবে না, তাকে ধারণ করে আমাদের সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।’

তিনি বলেন, নজরুল ও নার্গিসের সম্পর্ক নিয়েও আরও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। তাদের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে রচিত গান ও তার বিশ্লেষণ জরুরি। এসব আলোচনা নজরুল ও তার সময়কে গভীরভাবে জানতে সহায়তা করবে।

জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় কবির চিন্তার সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নজরুলের সাহিত্যিক প্রাসঙ্গিকতা বুঝতেও আজকের আয়োজন সহায়তা করবে।’

অনুষ্ঠানে ‘নজরুল পদক ২০২৬’ প্রদান করা হয়। নজরুল গবেষণায় কবি আবদুল হাই শিকদার এবং নজরুল সংগীতে শিল্পী শবনম মুশতারীকে এ পদক দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় অধিবেশনের আলোচনায় অধ্যাপক ফারভীন আক্তার জেমী বলেন, ‘নজরুলকে জানতে কমরেড মোজাফফর আহমদের স্মৃতিকথা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তার স্মৃতি ও চিন্তা বিশ্লেষণ করলে নজরুলকে আরও গভীরভাবে বোঝা সম্ভব।’

‘কাজী নজরুল ইসলাম ও আবুল মনসুর আহমদ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রাবন্ধিক ও গবেষক আলমগীর মোহাম্মদ বলেন, নজরুল ইসলাম ও আবুল মনসুর আহমদের সম্পর্ক ও যোগাযোগ বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের সাহিত্যকর্মে সমাজের নানা বাস্তবতা উঠে এসেছে। বিশেষ করে নজরুলের ‘মৃত্যুক্ষুধা’ এবং আবুল মনসুর আহমদের ‘জীবনক্ষুধা’ সমাজের ক্ষতবিক্ষত বাস্তবতাকে ভিন্নভাবে তুলে ধরেছে।

আয়োজকরা বলেন, নজরুলের সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্যবাদ ও শোষণবিরোধী চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়েই নজরুলচর্চাকে আরও অর্থবহ করে তুলতে হবে।

আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চা কেন্দ্রের মহাসচিব প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান শেলী। প্রধান অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমাদুল হুদা। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।