ডানা মেলা পাখিদের প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প
প্রকৃতিতে উড়ে বেড়ানো পাখিদের জীবন শুধু ডানা মেলে ওড়া আর বাসা বাঁধার গল্প নয়, তাদেরও আছে বিস্ময়ভরা প্রেম, টানাপোড়েন আর বিচ্ছেদের কাহিনি।
কখনো তারা ফ্লার্ট করে রঙিন পালক মেলে, সুর তোলে মন জয় করতে, আবার কখনো দীর্ঘদিনের সঙ্গী হয়ে গড়ে তোলে অটুট বন্ধন।
সংবাদ মাধ্যম বিবিসিতে ‘ফ্লার্ট, ডেট, ডিভোর্স: পাখিদের বর্ণিল প্রেমের জগৎ’ শিরোনামে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনে উঠে আসে পাখিদের জটিল প্রেমের জীবন ও প্রণয়ের বিচিত্র রূপ।
বার্ডিং ম্যাগাজিনের সহযোগী সম্পাদক নোয়া স্ট্রাইকার বিবিসিকে জানান. নাচ, গান, উপহার দেওয়া কিংবা বাসা বানিয়ে সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার মতো নানা অভিনব কৌশল দেখা যায় পাখিদের রাজ্য।
তিনি বলেন, ‘ওয়াক্সউইং নামে এক ধরনের পাখি আছে। এ প্রজাতির পুরুষ পাখি যখন কোনো স্ত্রী পাখির প্রেমে পড়ে, তখন সে তাকে উপহার দেয় একটি ফুল বা রসালো ফল বেরি।’

প্রকৃতির এমন নিজস্ব প্রেমপত্রে ভালোবাসা নিবেদন করে ওয়াক্সউইং পাখি।
পেঙ্গুইনদের প্রেমও কম মধুর নয়।
নোয়া স্ট্রাইকার বলেন, পরস্পরকে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে ছোট ছোট পাথরের নুড়ি উপহার দেয় পেঙ্গুইনরা।
পরে যা দিয়ে নিজেদের বাসা ও সংসার গড়ে তোলে পেঙ্গুইন জুটি।
অ্যালবাট্রস পাখিদের প্রেমের গল্প আরও দীর্ঘ ও ধৈর্যের।

নোয়া স্ট্রাইকার জানান, অ্যালবাট্রস পাখিরা সঙ্গী বেছে নেওয়ার আগে অসাধারণ এক নৃত্যাভিনয় করে, যা কখনও কখনও তাদের জীবনের বহু বছর কেড়ে নেয়।
তবে শেষ পর্যন্ত যখন তারা জুটি বাঁধে, তখন সেই বন্ধন আজীবন স্থায়ী হয় বলে জানান তিনি।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউগিনিতে দেখা মেলে বাওয়ারবার্ডের। এই প্রজাতির পুরুষ পাখিরা জীবনের বড় একটি সময় ব্যয় করে বনভূমিতে শিল্পকর্মের মতো সাজানো ‘বাওয়ার’ নির্মাণে—শুধু স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করার জন্য।

নোয়া স্ট্রাইকার বলেন, ‘পাখিদের জগতের সবচেয়ে জটিল প্রণয় আচরণগুলোর একটি এটি।’
নোয়া স্ট্রাইকারের মতে, পাখিরা সাধারণত দীঘস্থায়ী সম্পর্কে থাকে। এক-দুই বছর থেকে শুরু করে অনেক প্রজাতির পাখি আজীবন জুটি বেঁধে থাকে, একসঙ্গে ছানা লালন-পালন করে।
তবে পাখিদের রাজ্যেও আছে মানুষের মতো সম্পর্ক ভাঙনের বেদনাময় বাস্তবতা বা নীরব ডিভোর্সের গল্প।
নোয়া স্ট্রাইকার জানান, বিশেষ করে প্রজননের সময়ে পাখিদের মধ্যে সম্পর্ক ভাঙলে, তার ফলাফল খুব বাজে হয়।
তবে পেঙ্গুইন, হাঁস বা অ্যালবাট্রসের মতো পাখিদের সাধারণত একবার সম্পর্ক হলে, তা আজীবন টিকে থাকে।
কেবলমাত্র প্রজনন ও বাসা বাঁধার মৌসুমে যদি সম্পর্ক ভালো না যায়, তারা আলাদা হয়ে যায়। সাধারণত খারাপ প্রজনন মৌসুমের পর পাখিরা সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা একে অপরের জন্য নয়।
মানুষের মতো পাখিদের জীবনেও ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি আর বিচ্ছেদ একই রকম আবেগ-অনুভূতি তৈরি করে বলে জানান নোয়া স্টাইকার।